রামমন্দিরে চুরি দানের টাকা! অখিলেশের অভিযোগের পর গোপন অভিযানে উদ্ধার ১.৫ কোটি
প্রতিদিন | ১০ জুন ২০২৬
রাম মন্দিরের ভক্তদের দানের কোটি কোটি টাকা চুরি! সম্প্রতি এমনই অভিযোগ তুলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। সেই মামলার তদন্তে গোপন অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা উদ্ধার করলেন তদন্তকারীরা। কে বা কারা এই চুরির নেপথ্যে তা প্রকাশ্যে না আনলেও তদন্তকারীরা মন্দিরের ৯ জন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। পাশাপাশি তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত আরও বেশ কয়েকজন।
সূত্রের খবর, টাকা চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর সম্প্রতি দিল্লি থেকে অযোধ্যায় এসে এসবিআই ব্যাঙ্কের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মন্দির ট্রাস্টের প্রধান নৃপেন্দ্র মিশ্র ও সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের পর মঙ্গলবার দিল্লি ফিরে যান তাঁরা। এরপরই জানা যায় মন্দির ট্রাস্টের তরফে গোপনে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশও এই তদন্তে ট্রাস্টকে সাহায্য করছে। সূত্রের খবর, গোপন তদন্তে এখনও পর্যন্ত দেড় কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মন্দিরের ৯ জন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। আরও বেশ কয়েকজনের উপর নজর রাখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, সন্দেহভাজনরা মন্দিরের টাকা হাতিয়ে সেই টাকা দিয়ে জমি, বাড়ি এমনকী বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন। কয়েকজন কর্মীর সম্পত্তি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে ট্রাস্ট ও পুলিশ। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অযোধ্যা শাখা এবং অযোধ্যার অন্যান্য ব্যাঙ্কের শাখায় থাকা সন্দেহভাজন কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, যারা হুইল চেয়ারে করে তীর্থযাত্রীদের মন্দিরে নিয়ে যেতেন তাঁদের কয়েকজন মন্দির থেকে টাকা পাচার করতেন। মন্দিরের টাকা চুরির সমস্ত দিক গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার রামমন্দির থেকে কোটি কোটি টাকা চুরির অভিযোগ তুলে সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছিলেন অখিলেশ। তিনি লেখেন, ‘বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রামভক্তদের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখের খবর। রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনা মন্দির ট্রাস্টের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অস্বস্তিকর। কেউই সামনে এসে এই ইস্যুতে মুখ খুলতে চাইছেন না।’ পাশাপাশি এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি লেখেন, ‘এই বিষয়ে দেশের আদালতকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে হস্তক্ষেপের আবেদন জানাচ্ছি। কারণ এই বিষয়টি বিশ্বের সকল রামভক্ত ও সনাতনীদের বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে। সেখানে সরকারের এই নীরবতা সন্দেহজনক।’ সেই ঘটনার পর এবার গোপন তদন্ত শুরু করল মন্দির কর্তৃপক্ষ।