কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা? প্রধানমন্ত্রীর মুখ হিসাবে মানতে হবে রাহুলকে, শর্ত প্রদেশের
প্রতিদিন | ১০ জুন ২০২৬
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মহা বিপর্যয়ের পর কংগ্রেসকে আঁকড়ে বাঁচতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? সূত্রের দাবি, তৃণমূল এবং কংগ্রেসের সংযুক্তিকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই দলের শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেসের তরফ থেকে মমতাকে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি এই চরম দুঃসময়ে মমতাকে ‘গ্রহণ’ করে, তাহলে প্রদেশ নেতৃত্ব কি আদৌ সেই সিদ্ধান্ত মানবে? রাজ্যের যে কংগ্রেস কর্মীরা এতদিন তৃণমূলের দ্বারা অত্যাচারিত, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেত্রী হিসাবে মানবেন?
এ প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত প্রদেশ নেতৃত্ব। প্রদেশের একটা অংশ মনে করছেন, মমতাকে দলে নেতার বা এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমোর হাত ধরার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। এই সময় মমতাকে সঙ্গে নেওয়ার অর্থ, তৃণমূলের ১৫ বছরের দুর্নীতি, অপশাসনের দায় নিজেদের গায়ে মাখা। অধীর চৌধুরী, আবদুল মান্নানের মতো প্রবীণ নেতারা এই দলে। আবদুল মান্নান যেমন সাফ বলে দিচ্ছেন, “আমার কংগ্রেস নেতৃত্বের উপর আস্থা রয়েছে। নো অ্যালায়েন্স উইথ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” একই সুর অধীরেরও। তিনি বলছেন, “যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় কংগ্রেস ভাঙিয়েছিলেন, তাঁকেই এবার গান্ধী পরিবারের কাছে গিয়ে হাতেপায়ে ধরতে হচ্ছে। পাপের ফল ভোগ করতে হবেই।”
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সুর তুলনায় নরম। সাফ বলছেন, যদি কেউ দলে আসতে চান, তাহলে তাঁকে আগে মেনে নিতে হবে যে রাহুল গান্ধীই কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখ। শুভঙ্করের বক্তব্য, “রাহুল গান্ধীকে ভাবি প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে যাঁরাই কংগ্রেসে আসবেন তাঁদের প্রত্যেককে স্বাগত।” অভিষেকের ক্ষেত্রে অবশ্য শুভঙ্করও কড়া। তাঁর সাফ কথা, “কারও গায়ে যদি দুর্নীতির দাগ লেগে থাকে, কেউ যদি নিজেকে বাঁচাতে কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসতে চান, তাহলে তাঁর জন্য দরজা খোলা হবে না।”
বস্তুত, তৃণমূলে ভাঙন যত বাড়ছে ততই যেন কংগ্রেসের সঙ্গে নৈকট্য বাড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একদিন আগে ১০ জনপথে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন সোনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে ১০ জনপথে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই দলের দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের বৈঠক হয়। পরপর দু’দিন দুই দলের সর্বোচ্চ স্তরের নেতাদের বৈঠক ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। শোনা যাচ্ছে, বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ, সম্ভাব্য ভাঙন এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে রাহুল এবং অভিষেকের মধ্যে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সদলবলে তৃণমূলকে কংগ্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে পারেন এমন জল্পনাও শোনা যাচ্ছে রাজধানীর অন্দরে। কোনও কোনও মহলের বক্তব্য, মমতা ও অভিষেকের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে একপ্রকার আলোচনাও হয়েছে দুই দলের নেতাদের শীর্ষস্তরের বৈঠকে। তাতেই আপত্তি কংগ্রেসের প্রদেশ নেতৃত্বের।