মেসি কাণ্ডে গ্রেপ্তারির মতো কড়া পদক্ষেপ নয়! ‘গায়ে পড়া’ অরূপকে ভর্ৎসনা করে বিচারপতির প্রশ্ন, ‘বাল্যবন্ধু নাকি?’
প্রতিদিন | ১০ জুন ২০২৬
মেসি কাণ্ডে সাময়িক স্বস্তি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas)। এখনই গ্রেপ্তারির মতো কড়া পদক্ষেপ নয়, নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের। তবে তদন্ত চলবে নিজের গতিতে। নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে অরূপ বিশ্বাসকে। আদালতের নির্দেশ ছাড়া রাজ্যও ছাড়তে পারবেন না। মামলার পরবর্তী শুনানি ৪ আগস্ট।
গত ডিসেম্বর থেকে মেসি কাণ্ডে উত্তাল বাংলা। ঘটনার তদন্তে এই মুহূর্তে অ্যাকশন মোডে পুলিশ। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। বুধবার ছিল সেই মামলার শুনানি। সেখানেই গোটা ঘটনায় প্রাক্তন মন্ত্রীকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “মেসিকাণ্ডে আমরা অত্যন্ত লজ্জিত। রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এই ঘটনা।” বিরক্তির সুরে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “মেসিকে জড়িয়ে ধরে অরূপ বিশ্বাস দাঁড়িয়ে আছেন! মেসি কি অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas) বাল্যবন্ধু? মেসির অত কাছাকাছি অরূপ বিশ্বাস গেলেন কেন? গোটা দেশের আরও অনেক জায়গায় মেসি গিয়েছেন, কোথাও তো এসব হয়নি।”
এরপরই বিচারপতি প্রশ্ন করেন, বারবার পুলিশি হাজিরা কেন এড়িয়ে যাচ্ছেন অরূপ? জবাবে আইনজীবী বলেন, “আপনি রক্ষাকবচ দিলে আগামিকালই যাব।” ডিম হামলার আশঙ্কা করে সেই সংক্রান্ত নিরাপত্তাও চান তিনি! রক্ষাকবচের বিরোধিতা করে রাজ্য জানায়, “মামলাকালীর তুলনায় অভিযুক্ত অনেকবেশি প্রভাবশালী। তিনি তদন্ত প্রাভাবিত করতে পারেন।” দুপক্ষের বক্তব্য শোনার পর যেহেতু যেসব ধারায় মামলা হয়েছে সেগুলির সাজার সর্বোচ্চ মেয়াদ ৭ বছর, তাই গ্রেপ্তারির মত কড়া পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দেন বিচারপতি। তিনি বলেন, “১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫-এর ঘটনা। অভিযোগ করা হয়েছে ৩০ মে ২০২৬। ৬ মাস পরে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, আর রাজ্য ভাবছে যে এতদিন পর অরূপ বিশ্বাস সাক্ষীদের ভয় দেখাবেন?”
তবে রক্ষাকবচ মিললেও একাধিক শর্ত দেওয়া হয়েছে অরূপকে। মেসিকাণ্ডে পুলিশের দ্বারা নির্ধারিত দিনে হাজিরা দিতেই হবে তাঁকে। তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া রাজ্য ছাড়তে পারবেন না অরূপ। নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। কোন সাক্ষীদের ভয় দেখাতে পারবেন না। এই ঘটনা কেন ঘটল সেটার আলাদা করে নিরপেক্ষ তদন্ত করবে পুলিশ। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে হবে তদন্ত। চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে কলকাতা হাই কোর্টে।