জেদ-দূরদর্শিতা...! যেভাবে পূর্বস্থলীর আম পৌঁছে গেল বিহারে? ১০ বছর আগের সেই গল্প জানুন
News18 বাংলা | ১০ জুন ২০২৬
: পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর নাম শুনলেই এখন অনেকের মনে ভেসে ওঠে রসাল আমের ছবি। কিন্তু এক সময় এই এলাকার আমের তেমন পরিচিতি ছিল না রাজ্যের বাইরে। আজ সেই পূর্বস্থলীর আম পৌঁছে যাচ্ছে বিহারের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি অন্যান্য রাজ্যেও। আর এই জনপ্রিয়তার পিছনে রয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম, যার মধ্যে অন্যতম নাম মহির সেখ।
কাষ্ঠশালি গ্রামের বাসিন্দা ও আম ব্যবসায়ী মহির শেখের দাবি, প্রায় এক দশক আগে তিনিই প্রথম পূর্বস্থলী থেকে বিহারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। তখন পূর্বস্থলীর আমের বাজার এতটা বিস্তৃত ছিল না। তিনি নিজে বিহার থেকে পাইকার নিয়ে এসে এখানকার বাগান থেকে আম সংগ্রহের ব্যবস্থা করেন। ধীরে ধীরে সেই যোগাযোগ বাড়তে থাকে। এক ব্যবসায়ীর হাত ধরে আরও বহু পাইকার পূর্বস্থলীর সঙ্গে যুক্ত হন। আজ বিহারের অসংখ্য ব্যবসায়ী সরাসরি পূর্বস্থলীতে এসে আম কিনে নিয়ে যান। মহির সেখ বলেন, “প্রথম দিকে পূর্বস্থলীর আমকে কেউ চিনত না। বিহারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমিই প্রথম এখানে বাজার তৈরি করি। পরে একের পর এক ব্যবসায়ী আসতে শুরু করেন। এখন পূর্বস্থলীর অধিকাংশ আমই বিহারের দিকে যায়।”
তবে চমকপ্রদ বিষয় হল, পূর্বস্থলীর পাকা আমের থেকে কাঁচা আমের চাহিদাই এখন বেশি। কারণ দূরপাল্লার পরিবহণে পাকা আম দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে কাঁচা আম সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তাই পাইকাররা বাগান থেকেই কাঁচা আম কিনে ট্রাকে তুলে নিয়ে যান। পরে নিজেদের এলাকায় গিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে আম পাকিয়ে বাজারজাত করেন। মহির সেখের কথায়, “পাকা আম এত দূর পর্যন্ত ভালভাবে পৌঁছয় না। কিন্তু কাঁচা আমের কোনও সমস্যা হয় না। তাই পাইকাররা কাঁচা আমই বেশি ভাঙে। পরে ওঁরা নিজেদের জায়গায় নিয়ে গিয়ে আম পাকিয়ে বাজারে ছাড়ে।” বর্তমানে পূর্বস্থলীর কাঁচা আম বিহারের পূর্ণিয়া, কাটিহার, বিহারীগঞ্জ, সহারসা, মোতিহারি, পাটনা-সহ একাধিক জেলায় পৌঁছে যাচ্ছে। বিহার দেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদনকারী রাজ্য হলেও সেখানকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে পূর্বস্থলীর আমের প্রতি আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, ভাল মান, তুলনামূলক কম ক্ষয়ক্ষতি এবং সহজ পরিবহণ এই তিন কারণে কাঁচা আমের বাজার দ্রুত বেড়েছে। ফলে এখন অনেক বাগান মালিকও পাকা হওয়ার আগেই আম বিক্রি করে দিচ্ছেন পাইকারদের কাছে।এক সময় যে পূর্বস্থলীর আমের পরিচিতি ছিল সীমিত, আজ সেই আমের বাজার ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে। আর সেই সাফল্যের গল্পে জড়িয়ে রয়েছে মহির সেখের মতো ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ, পরিশ্রম এবং দূরদর্শিতা। বলা যায়, পূর্বস্থলীর আমের জনপ্রিয়তার ইতিহাসে কাঁচা আমের প্রাধান্য সবথেকে বেশি।