হারিয়ে যাচ্ছে জামাই ষষ্ঠীর সেই চেনা আবেগ! তালপাতার জায়গায় এখন দেদার বিকোচ্ছে এই পাখা
News18 বাংলা | ১০ জুন ২০২৬
: তালপাতার পাখার দেখা নেই, জামাই ষষ্ঠীর আগে রমরমা প্লাস্টিকের পাখা। এক সময় জামাই ষষ্ঠীর অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল তালপাতার পাখা। বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারিবারিক আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল এই পাখার ব্যবহার। বিশেষ করে জামাইকে আপ্যায়নের সময় তালপাতার পাখা দিয়ে বাতাস করা ছিল বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের রীতি। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐতিহ্য আজ অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে।
বর্তমানে তালগাছ ও তালপাতার সংকট যেমন বেড়েছে, তেমনই কমে গিয়েছে তালপাতার পাখা তৈরির কারিগরদের সংখ্যাও। ফলে বাজারে ঐতিহ্যবাহী তালপাতার পাখার জোগান প্রায় নেই বললেই চলে। এই সুযোগেই সহজলভ্য ও তুলনামূলকভাবে টেকসই প্লাস্টিকের পাখা এখন বাজার দখল করেছে।
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়ার তারাগুনি এলাকা বর্তমানে প্লাস্টিকের পাখা উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এখানকার ছোট-বড় একাধিক কারখানায় তৈরি হওয়া পাখা শুধু জেলার বাজারেই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও সরবরাহ করা হয়। বিশেষ করে জামাই ষষ্ঠীকে সামনে রেখে এই পাখার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, উৎসবের মরশুমে প্রতিদিন হাজার হাজার প্লাস্টিকের পাখা বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন রঙ, নকশা ও দামের কারণে ক্রেতাদের কাছেও এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। ফলে একসময় যে জায়গা দখল করে ছিল তালপাতার পাখা, সেখানে এখন আধিপত্য বিস্তার করেছে প্লাস্টিকের পাখা।
তবে একাংশের আক্ষেপ, প্লাস্টিকের পাখা ব্যবহারিক সুবিধা দিলেও তালপাতার পাখার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাংলার ঐতিহ্য ও আবেগ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, তালপাতার পাখা শুধু একটি ব্যবহার্য সামগ্রী নয়, বরং গ্রামীণ শিল্প ও লোকসংস্কৃতির এক মূল্যবান নিদর্শন, যা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।