একমাত্র শিক্ষকও অনিয়মিত, লাটে উঠছে পড়াশোনা থেকে মিড-ডে-মিল! মালদায় ব্যাপক ক্ষোভ
News18 বাংলা | ১০ জুন ২০২৬
স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক, তাও থাকেন অনুপস্থিত! দুই মহিলার ভরসায় চলছে হরিশ্চন্দ্রপুরের পাড়ো জুনিয়র হাইস্কুল, পড়াশোনা থেকে মিড-ডে মিল নেই সচল কিছুই। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের তুলসীহাটা চক্রের পাড়ো জুনিয়র হাইস্কুলে শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, বিদ্যালয়ে একমাত্র শিক্ষক তথা প্রধান শিক্ষক হিমাদ্রী শেখর মণ্ডল নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকেন না।
তাঁর অনুপস্থিতিতেই স্থানীয় দুই মহিলার মাধ্যমে স্কুলের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাসিম আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। স্থানীয় দুই মহিলাকে সামান্য পারিশ্রমিক দিয়ে স্কুল দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে অস্থায়ীভাবে স্কুল পরিচালনায় থাকা এক মহিলা বাসি বেসরা বলেন, “প্রধান শিক্ষক পার্ট টাইম হিসেবে কাজে রেখেছেন। পড়াশোনা এবং স্কুলের দেখাশুনা করি। ১৫ থেকে ২০ জন পড়ুয়া নিয়মিত আসে। প্রতিদিন মিড ডে মিল রান্না হয়। তবে প্রধান শিক্ষক কম আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৫০-৬০ জন ছাত্রছাত্রীর নাম নথিভুক্ত থাকলেও বাস্তবে প্রতিদিন হাতে গোনা কয়েকজন পড়ুয়া স্কুলে আসে। শিক্ষকের অভাবে পাঠদান কার্যত বন্ধ হওয়ার মুখে। পাশাপাশি, মিড-ডে মিলও নিয়মিত চালু নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক হিমাদ্রী শেখর মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনায় বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা মধ্যশিক্ষা আধিকারিক মৃন্ময় রায়।