• বাংলাদেশের বিষাক্ত বর্জ্যে ধুঁকছে মাথাভাঙ্গা-চূর্ণী নদী, দুর্গন্ধে প্রাণ যাওয়ার জোগাড় স্থানীয়দের
    News18 বাংলা | ১০ জুন ২০২৬
  • দীর্ঘদিনের নদী দূষণের সমস্যার সমাধানে এবার নতুন করে আশার আলো দেখছেন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের সীমান্তবর্তী পাবাখালি এলাকার বাসিন্দারা। রাজ্যে ও কেন্দ্রে একই রাজনৈতিক দলের সরকার প্রতিষ্ঠার পর চূর্ণী, মাথাভাঙ্গা ও ইছামতি নদীর ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষ আশা করছেন, বহু বছরের জলদূষণ সমস্যার এবার স্থায়ী সমাধান হবে। জানা যায় বাংলাদেশ থেকে আসা মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে চূর্ণী ও ইছামতি নদী।

    অভিযোগ, বাংলাদেশের দর্শনায় অবস্থিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনিকল থেকে প্রতি বছর ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে দূষিত বর্জ্য জল মাথাভাঙ্গা নদীতে ফেলা হয়। এর ফলে নদীর মাছ, জলজ প্রাণী ও বিভিন্ন জীববৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়দের দাবি, এই দূষিত জল ব্যবহারে কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়, পশুপাখির মৃত্যুও ঘটে এবং মানুষের মধ্যে বিভিন্ন চর্মরোগের প্রকোপ দেখা দেয়। বহু বছর ধরে এই সমস্যা নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছে একাধিক সংগঠন।

    তাদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। এমনকী দূষিত নদীর জল নমুনা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি সংগঠনের সদস্যদের। চূর্ণী ও মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও কমিটির সম্পাদক স্বপন ভৌমিক জানান, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন তারা। আদালত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল।

    তিনি বলেন, “এবার ডবল ইঞ্জিন সরকার এসেছে। আমরা আশা করছি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।” স্থানীয় মৎস্যজীবী ভানু হালদার জানান, নদীতে মাছের মৃত্যু ও জীবিকার সংকটের কারণে বহু মানুষ ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি অমিত দাস, বিজেপি নেতা রূপকুমার ঘোষ এবং কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সুকান্ত বিশ্বাসও দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এখন নদীপাড়ের মানুষের আশা, ডবল ইঞ্জিন সরকার এই নদী দূষণের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করুক।
  • Link to this news (News18 বাংলা)