• ডায়রিতে লিখেছিল ‘হস্টেল বন্ধ করব’, কৃষ্ণনগরে ছাত্রী খুনের পর বন্ধের মুখে স্কুলের আবাসন
    News18 বাংলা | ১০ জুন ২০২৬
  • কৃষ্ণনগরে ছাত্রী খুনের ঘটনায় ধৃত নবম শ্রেণির এক ছাত্রী ডায়রিতে লিখেছিল – ‘হস্টেল বন্ধ করে দেব’। প্রথম শ্রেণির ছাত্রী খুনের পর অভিযুক্তদের সেই ইচ্ছাই কি এবার পূরণ হতে চলেছে? কৃষ্ণনগর কুইন্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় সেই স্কুলের আবাসনের ভবিষ্যত ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, বিতর্কের জেরে বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে এই আবাসন। সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিন এই স্কুলের উপস্থিত ছাত্রীর সংখ্যা একদম তলানিতে এসে ঠেকে। এই স্কুলে সেকেন্ডারি বিভাগে মোট ছাত্রী রয়েছে ৩১০ জন। সোমবার স্কুলে উপস্থিত ছিল মাত্র ৬৭ জন।

    আরও পড়ুন-‘আমার প্রথম কাজ হবে টাটাকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনা…’ শিল্পমন্ত্রী হওয়ার পরেই জানালেন তাপস রায়

    হাতেগোনা এই কয়জন ছাত্রদের নিয়ে কোনও রকমের স্কুল চলে। ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের আবহ ছিল। ঘটনাস্থল এড়িয়েই চলছিল সকলেই। শহরবাসীর দাবি, নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের জেরে এদিন স্কুল আসা থেকেই অনেকের বিরত থেকেছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তথা আবাসনের সুপার তণ্বী সরকার বলেন, ‘‘পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই আমি স্কুল খুলেছি। ওই ঘটনার জেরে স্কুলে স্টুডেন্ট কম এসেছে। বর্তমানে আবাসনে কোনোও আবাসিকরা নেই। স্টুডেন্টদের মধ্যেও একটু আতঙ্ক রয়েছে। তবে শুনছি হস্টেল বন্ধ হয়ে যাবে। ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত হস্টেল চলতে পারে।’’

    উল্লেখ্য, আবাসন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে, ডিসেম্বর পর্যন্ত আবাসন চালানোর আবেদন করা হয়েছে। কারণ বর্তমানে সেখানে ৩৫ জন আবাসিক রয়েছে। তাদের অনেকের অভিভাবকরা বাইরের রাজ্যে-সহ বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। বছরের মাঝখানে হঠাৎ এইভাবে বন্ধ করে দিলে তাদেরকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

    আরও পড়ুন– রাজস্থান থেকে বিহার এসেছিলেন বর, রাতে বিয়ের পর সকালে এমন এক গোপন তথ্য ফাঁস হল যাতে অবাক প্রত্যেকেই!

    স্কুলের এক কর্তৃপক্ষ বলেন, ‘‘সোশ্যাল মিডিয়া-সহ বিভিন্ন জায়গায় নানা রকম তীর্যক কথা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের পরিবারের লোকজোনও আঘাত পাচ্ছে। বিষয়গুলো আমরা উপর মহলেও জানিয়েছি। তাঁরাই তখন আমাদের হস্টেল বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে।’’

    শনিবার সকালে কৃষ্ণনগর কুইন্স উচ্চ বিদ্যালয় এর আবাসনের বাথরুমে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাকে প্রথমে জল ডুবিয়ে ও তারপর দু’হাতের শিরা কেটে খুন করে তাঁরই দুই নবম শ্রেণীর সহপাঠী। স্কুলের উপরেই আবাসন রয়েছে। সেখানেই একসঙ্গে থাকত ৩৫ জন আবাসিক। অধিকাংশের অভিভাবকরা বাইরে থাকেন। এই পরিস্থিতিতে ধৃত দুই নবম শ্রেণির ছাত্রীর মধ্যে একজন দেড় বছর ধরে ও অপরজন পাঁচ মাস ধরে আবাসনে থাকছিল। এক বিশাল হলঘরে সকলে মিলেই তারা থাকত।

    শুক্রবার রাতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রী বাথরুমে যাওয়ার সময় নবমী শ্রেণির দুই দিদিকে নিয়ে যায়। সেটাই দেখেছিল এক আবাসিক। পুলিশের সেই আবাসিকের কাছে বিষয়টি শোনার পর নবম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে নিয়ে সন্দেহ জোরালো হয়। তারপর দীর্ঘ সময় জেরা করে অবশেষে শনিবার গভীরে রাতে তারা খুনের বিষয়টি স্বীকার করে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ধৃতরা আবাসন পাকাপাকিভাবে বন্ধ করতে। এবার সেই আবাসনই বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে চলতি বছরের শেষে।

    তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘরছাড়া ও পরিবার-বিচ্ছিন্ন অভিযুক্ত ওই কিশোরীর সঙ্গে এক তরুণের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। কৃষ্ণনগরে নিজের বাড়িতে থাকার সময় পরিবারের অলক্ষ্যে ফোনে দিন-রাত কথা চলত সেই প্রেমিকের সঙ্গে। কিন্তু মাস ছয়েক আগে যখন তাকে এই আবাসিক স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়, তখন থেকেই ওলটপালট হয়ে যায় চেনা ছন্দ। কড়া অনুশাসনের হস্টেলে মোবাইল রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও গোপনে প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাত ওই কিশোরী।
  • Link to this news (News18 বাংলা)