• মমতা-সনিয়ার পরে রাগা-অভিষেক বৈঠক, প্রশ্নে ‘আসল তৃণমূল’, বাড়ছে নানা জল্পনা
    এই সময় | ১০ জুন ২০২৬
  • দিল্লিতে কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডি ব্লকের মিটিংয়ে যখন সনিয়া গান্ধীর পাশের চেয়ারে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক তখনই সেখান থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে দিল্লির মতিলাল নেহরু মার্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে মিটিংয়ে বসেছিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদেরা। তার কিছুক্ষণ আগেই রাজ্যসভা ও দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। তিনিও ছিলেন সেই মিটিংয়ে। সে দিন অর্থাৎ ৮ জুন, সোমবার লোকসভার স্পিকারের কাছে ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী ঘোষণা করে এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার জন্য চিঠি জমা দেন। ওই তালিকায় ছিলেন তৃণমূলের একাধিক পুরোনো মুখও। ওই সোমবার থেকে যত সময় গিয়েছে ততই চওড়া হয়েছে তৃণমূলের সংসদীয় দলের ফাটল। ১০ জুন, বুধবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুস্মিতা দেব, যিনি অসমের তৃণমূল নেত্রী।

    দিল্লিতে মমতা-অভিষেক থাকার সময়েই যখন তৃণমূলে এমন ভাঙনের ছবি। তখন অন্যদিকে ইন্ডি জোটের বৈঠকে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার ঘনিষ্ঠতাও নজর কেড়েছে আলাদা করে। দু’জনের মধ্যে আলিঙ্গনের ছবিও ধরা পড়েছে। এরই মধ্যে বুধবার দিল্লিতে আলাদা করে বৈঠক করেছেন তাঁদের পরবর্তী রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের জোট করবেন নাকি কংগ্রেসের মধ্যে তাঁদের তৃণমূলকে মিশিয়ে দেবেন? নাকি তাঁদের হাত থেকে তৃণমূলের পরিচয় বেরিয়ে গেলে, তাঁরা কংগ্রেসে যাবেন? এমন নানা প্রশ্ন এখন ঘোরাফেরা করছে জাতীয় রাজনীতিতে।যদিও সবই জল্পনা। কোনও কিছুই পরিষ্কার হয়নি।

    ঠিক এমন সময়েই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূলের অধিকাংশ বিধায়ক আলাদা করে গোষ্ঠী করেছেন বিধানসভার অন্দরে। তাঁরা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছেন। বুধবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে থাকা বিধায়কদের সংখ্যাটা ৬৪ পেরিয়ে গিয়েছে। আমরাই তো তৃণমূল। কে কার সঙ্গে কোথায় দেখা করল জানি না। আমরা পরিষদীয় দল। আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছি না।’

    অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘রাজনীতি সম্ভাবনাময় শিল্প। আরএসএস-এর বিচারধারার বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর লাগাতার আন্দোলনে, রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়ে কংগ্রেসে এলে তাঁদের জন্য দরজা খোলা...তাঁরাই আসবেন, যাঁদের ভয় নেই।’

    এ দিনই, কংগ্রেস হাইকম্যান্ড ১১ জুন একটি জরুরি মিটিং ডেকেছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সেই মিটিং ডাকা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতির নেতৃত্বে হতে চলা ওই মিটিংয়ে এআইসিসি-র সব সাধারণ সম্পাদক, দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারী এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)