প্রতি মুহূর্তে বদলাচ্ছে বঙ্গ রাজনীতি। গত ৪ মে থেকে দলত্যাগ, দলবদল, ব্লক বদল, আরও অনেক কিছুই দেখে ফেলেছে বঙ্গবাসী। দিল্লিতে ইন্ডিয়াা জোটের বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নানা জল্পনা শোনা যাচ্ছে। বুধবার বিধানসভার সামনে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে থাকা বিধায়কদের সংখ্যাটা ৬৪ পেরিয়ে গিয়েছে। আমরাই তো তৃণমূল। কে কার সঙ্গে কোথায় দেখা করল জানি না। আমরা পরিষদীয় দল। আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছি না।’
৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৯ জন বিধায়কের সই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় যে ‘নব্য তৃণমূল’-এর পরিষদীয় দলের পথ চলা শুরু হয়েছিল, বুধবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, তাঁদের সঙ্গে এই মুহূর্তে ৬৪ জন বিধায়ক আছেন। আগামিকাল আরও একজন বিধায়ক তাঁদের ‘শিবিরে’ নাম লেখাচ্ছেন। সংখ্যাটা যে আরও বাড়বে, সে কথাও এ দিন জানান তিনি।
ঋতব্রত বলেন, ‘আমরা এখানে তৃণমূল কংগ্রেস। আমরা তো মিশে যাচ্ছি না। আমরা তৃণমূলেই রয়েছি। সংখ্যাটা ৬৪ পেরিয়ে গিয়েছে। আগামিকাল হয়ত বলব ৬৫। স্বাভাবিক ভাবেই আমরা তৃণমূল। কে কোথায় কার সঙ্গে দেখা করল আমরা কী বলব। দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি আমরা মিশছি না কংগ্রেসের সঙ্গে। আমরা পরিষদীয় দল। আমার সঙ্গে যে সাংসদদের কথা হয়েছে, তাঁরাও মিশছেন না বলেই শুনেছি। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপি, এমএলএ মিশছেন না। জেলা পরিষদ, পুরসভারও কেউ মিশছে না।’
সোমবার তৃণমূল ছেড়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। বুধবার তৃণমূলের সব পদ ছেড়েছেন সুস্মিতা দেব। তিনিও রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে চলেছে বলেই জল্পনা। অন্যদিকে আবার তৃণমূলের লোকসভার সাংসদদের সিংহভাগই দলের সঙ্গে নেই। NDA-তে যোগ দিয়েছেন ২০ জন সাংসদ। বাকি যে ৮ জন, তার মধ্যে তিন-চার জনের অবস্থান নিয়েও সংশয় রয়েছে। ফলে সংসদীয় ও পরিষদীয় দলের সঙ্গে তৃণমূলের নাম জুড়ে থাকলেও, সাংগঠনিক ভাবে তৃণমূলের কী ভবিষ্যৎ, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানাবিধ চর্চা চলছে।