ওমান উপকূলের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। আমেরিকার মিসাইল হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় জাহাজটি। তাতে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তার মধ্যে তিন জন নিখোঁজ। সেই হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি বুধবার ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার শীর্ষ কূটনীতিকের উদ্দেশে ‘ডেমার্শ’ জারি করেছে কেন্দ্র। সোজা কথায়, আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে খবর, ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করেছিলেন বিদেশ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব নাগারাজ নাইডু। কড়া ভাষায় গোটা ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্যারিফ নিয়ে টানাপড়েন কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করেছে। ঠিক সেই সময়ে এই ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ় প্রণালী বন্ধ। ইরানের সমস্ত বন্দর অবরোধ করে রেখেছে আমেরিকান সেনা। কোনও জাহাজই ঢুকতে বা বেরোতে পারছে না। বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যেই এ দিন ওমান উপকূলের দ্বীপরাষ্ট্র পালাউয়ের ‘সেত্তেবেল্লো’ নামে একটি জাহাজ অবরোধ এড়িয়ে ইরানে ঢোকার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ। তখনই মিসাইল হামলা চালায় আমেরিকান সেনা।
দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে গোটা জাহাজ। ছুটোছুটি, হুড়োহুড়ি পড়ে যায় নাবিকদের মধ্যে। জাহাজটি ধীরে ধীরে ডুবতে শুরু করে। ওই জাহাজে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন। তার মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয়। হামলার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিপদ বার্তা পাঠিয়ে দেন। একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যর আমাদের সাহায্য করুন।’ আর এক নাবিক চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আগুন ধরে গিয়েছে। জাহাজ ডুবতে শুরু করেছে।’
সেই বিপদবার্তা এসে পৌঁছয় মুম্বইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টারে। তারা সঙ্গে সঙ্গে ওমানের মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সেন্টারের (ওএমএসসি) সঙ্গে যোগাযোগ করে। তার পরে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ইতিমধ্যে ২১ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখনও তিনজন নিখোঁজ।