২২ এপ্রিল, ২০২৪। রাজ্যের ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দুর্নীতির অভিযোগ ছিল নিয়োগ সংস্থার বিরুদ্ধে, খেসারত দিতে হয়েছিল শিক্ষকদের। ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষকরা ক্লাসের বদলে রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেন। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থাটা সর্বসমক্ষে চলে আসে। পালাবদলের পরে সেই অবস্থার কতটা পরিবর্তন হবে? উচ্চশিক্ষার হাল ফেরাতে কী কী পরিকল্পনা? জানালেন রাজ্যের নবনিযুক্ত উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
পাঁচ দশক বাদে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধা পাচ্ছে রাজ্যবাসী। অন্যান্য দপ্তরের মতো শিক্ষানীতির ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সরকারের পথ অবলম্বন করবে রাজ্য, বক্তব্য জগন্নাথের। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষানীতির প্রতিটি বিষয়কে হুবহু আমরা এখানে প্রয়োগ করব। মেনে চলবে, যাতে বাংলার পড়ুয়ারা, উচ্চ শিক্ষার্থীরা দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতো সমান সুবিধা পায়।’
পড়ুয়া থেকে শিক্ষক— রাজ্যের শিক্ষা পিরামিডের প্রতিটি স্তরের চাহিদার তালিকায় প্রথমেই যে পয়েন্টটি উঠে আসে ‘নিয়োগ চাই।’ কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত না করলে ভালো শিক্ষার্থীদের রাজ্যে আটকে রাখা অসম্ভব– মনে করে শিক্ষামহল। সে ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন নয়া মন্ত্রী। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা সংকল্প পত্রে বলেছি, বছর বছর SSC, PSC, পুলিশ, মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে। দুর্নীতি মুক্তি প্রশাসন হবে।…উচ্চশিক্ষা হোক বা কারিগরি শিক্ষা, নিয়োগ হবে একেবারে স্বচ্ছ ও ঘুষমুক্ত।’
এ দিন দায়িত্ব পাওয়ার পরেই শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী। সেখানে নির্দ্বিধায় শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা সমস্যা, ত্রুটির কথা তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন বাদে আধিকারিক মহলেও ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। সময়ানুবর্তিতা এবং স্বচ্ছতার শুরুটা তাই বিকাশ ভবন থেকেই শুরু করার বার্তা দেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।