রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন। বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পরেই প্রথম প্রতিক্রিয়ায় দীপক বলেন, ‘আমি নিজে একজন শিক্ষক, বিধায়ক। এখন মন্ত্রীও। আগে যাই, সকলের সঙ্গে কথা বলি। বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করি। পুরো বিষয়টা জানার পরেই পদক্ষেপ করব।’
বাম জমানায় রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর নানা ভাগে বিভক্ত ছিল। জোট রাজনীতির বাধ্যবাধকতায় সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেই মনে করেন অনেকে। কিন্তু তৃণমূল জমানায় এই ধারা বজায় থাকেনি। প্রথম দিকে উচ্চশিক্ষা, স্কুলশিক্ষার আলাদা দপ্তর থাকলেও, পরে সব এক ছাতার তলায় নিয়ে আসা হয়। অর্থাৎ, শিক্ষা সংক্রান্ত একটিই দপ্তর ছিল। যে দপ্তরের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং ব্রাত্য বসু। কিন্তু বিজেপি জমানায় আবার ভেঙে দেওয়া হলো শিক্ষা দপ্তরকে। এখন উচ্চশিক্ষা এবং স্কুলশিক্ষা দু’টি আলাদা দপ্তর। উচ্চশিক্ষার মন্ত্রী হয়েছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং স্কুলশিক্ষার মন্ত্রী দীপক।
ঘটনাচক্রে, জগন্নাথ এবং দীপক দু’জনেই সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ নেতা। সঙ্ঘের আদর্শে বিশ্বাসী তাঁরা। বিজেপির একটি সূত্রের খবর, শিক্ষার মতো বিভাগের দায়িত্ব একেবারে সংগঠনের ‘নিজস্ব লোকেদের’ হাতেই যাতে থাকে, তা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন নেতৃত্ব। দায়িত্বপ্রাপ্তির পরে দীপক বলেন, ‘আমার এত দিনের যা বোঝাপড়া, তার সঙ্গে কোথায় মিল, কোথায় অমিল, সেগুলো দেখার বিষয় আছে। সব বুঝেশুনেই পদক্ষেপ করব।’
বিজেপির অন্য একটি সূূত্রের মত, তৃণমূল জমানায় যে ভাবে শিক্ষায় দুর্নীতি এবং বেনিয়ম হয়েছে, সেই ক্ষত দ্রুত মেরামতের প্রয়োজন। দপ্তর ভাগ হলে সেই কাজে সুবিধা হবে। দ্রুত গোছানো সম্ভব হবে সব কিছু। তা নজরে রেখেই শিক্ষা দপ্তরকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।