আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরেরও বেশি সময় পার করে ফের মমতা ব্যানার্জি কংগ্রেসেই ফিরে আসবেন? বুধে রাজ্য ছাড়িয়ে, দেশের রাজনীতিতেও জোর জল্পনা তা নিয়েই। তবে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়তেই পশ্চিমবঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় ফলাফলের পর রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দলের পরিষদীয় এবং সংসদীয় দলে বড়সড় ভাঙন নেমেছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় এবং সংসদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা নতুন 'ব্লক' তৈরি করে ফেলেছেন। তৃণমূলের বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধিই আর মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্ব মানতে রাজি নন।
এই আবহে গত দু'দিন ধরে দিল্লিতে পড়ে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। 'ইন্ডিয়া' জোটের বৈঠকে যোগ দেওয়া ছাড়াও দু'জনেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে আলাদা করে দীর্ঘক্ষন বৈঠক করেছেন।
সূত্রের খবর, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে মমতা ব্যানার্জিকে তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসকে, কংগ্রেসের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব মমতা ব্যানার্জি গ্রহণ করেছেন কিনা সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য এখনও সংবাদমাধ্যমের কাছে এসে পৌঁছায়নি।
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যেতে পারে এমন সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতেই দলের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
দিল্লি থেকে এই বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন,"তৃণমূল কংগ্রেস দলের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনও বিরোধিতা ছিল না। রাজ্যে শাসক দলের ভূমিকায় থাকার সময় তৃণমূল কংগ্রেস আমার দলকে খতম করতে চেয়েছিল, আমি সেই সময় আমার দল কংগ্রেসকে রক্ষা করতে চেয়েছি। আমার সঙ্গে তৃণমূলের নেতাদের ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বৈরিতা ছিল না। আমি সেই রাজনীতি করি না।" অধীরবাবু আরও বলেন," আমি কংগ্রেসে থাকার সময় দেখেছি তৃণমূল দল ধীরে ধীরে কংগ্রেসকে খতম করার চেষ্টা করে চলেছে। আমি তখন আমার দলকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। এটা আমার রাজনৈতিক ধর্ম ছিল। বাকি এখন কী হচ্ছে, কারা আসছে তারাই জানে।" তবে অধীরবাবু আজ স্পষ্ট করে দেন, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে হারার কারণে মমতা ব্যানার্জি এখন কংগ্রেসের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করতে চাইছেন। তিনি বলেন," ভোটে হেরেছে বলেই মমতা ব্যানার্জি এখনই দু'বেলা দিল্লিতে কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে দেখা করছেন। ভোটের আগে তো তাঁকে আমরা আসতে দেখিনি।" অধীরবাবু দাবি করেন তাঁর কাছে এখনও সুনিশ্চিত খবর নেই মমতা ব্যানার্জিকে কংগ্রেসে নেওয়া হচ্ছে কিনা সেই বিষয়ে। সূত্রের খবর আগামীকাল দিল্লিতে কংগ্রেস নেতা কে সি বেনুগোপালের একটি বড় বৈঠক রয়েছে। সেখানেই সম্ভবত কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে।
এই বিষয়ে অধীর চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন," আগামী দিন কী হবে তা এখনই আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। দল যদি এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে নিশ্চয়ই আমাকে জানাবে।" অধীরবাবু বলেন ," কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল দলের মিশে যাওয়ার খবর সংবাদ মাধ্যমে ভেসে উঠতেই কংগ্রেসের নিচু তলার কর্মীদের মধ্যে কিছু সংশয় এবং প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে এতদিন লড়াই করা হয়েছে তাদেরকেই দলে নেওয়া হবে। আমার জানা নেই এই ঘটনার সত্যতা। কে সত্য বা মিথ্যা বলছে আমি জানিনা।" তবে অধীরবাবু আজ জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে রাহুল গান্ধী এবং সনিয়া গান্ধীর বৈঠকের আগে তাঁর সঙ্গে রাহুল গান্ধীর পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন," আমি দিল্লিতে আসার পর রাহুল গান্ধীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিষয়ের সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। আমি তাঁকে বলেছি পশ্চিমবঙ্গে এখন আমাদের পরিস্থিতি ভালো। আমাদের সংগঠন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।"