• তীব্র গরমে সোনামুখীর স্কুলে চলছে 'অকাল' বইমেলা, মোবাইল ছাড়াতে প্রধান শিক্ষকের মোক্ষম দাওয়াই
    News18 বাংলা | ১১ জুন ২০২৬
  • একেই বলা হয় অকাল বইমেলা। অকাল শব্দটা আবার খারাপ ভাবে নেবেন না। অকাল হলেও খুব ভালবাসার এই বইমেলা। এক প্রকার গ্রীষ্মকালীন বইমেলা বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত স্কুলে। বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীর ঐতিহ্যবাহী বি. জে. হাইস্কুলে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত বইমেলা। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বইয়ের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    স্কুল চলাকালীন সময়ে প্রতিটি শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য পর্যায়ক্রমে মেলা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের গল্প, উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস, সাধারণ জ্ঞানসহ নানা বিষয়ের বই ঘুরে দেখছে এবং পছন্দের বই সংগ্রহ করছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১২ জুন পর্যন্ত এই বইমেলা চলবে। প্রতিদিন সকাল ১১টার পর থেকে সোনামুখীর সমস্ত বইপ্রেমী সাধারণ মানুষের জন্যও মেলা উন্মুক্ত থাকবে। ফলে শুধু ছাত্রছাত্রী নয়, এলাকার সাহিত্যপ্রেমী মানুষও এই বইমেলার আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

    বইয়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে এবং ডিজিটাল যুগে পাঠাভ্যাসকে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা। বইয়ের পাতায় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে সোনামুখী বি. জে. হাইস্কুলের এই বইমেলা ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সঞ্চার করেছে। বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    বর্তমান সময়ে মোবাইল ও সামাজিক মাধ্যমের বাড়বাড়ন্তের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ক্রমশ কমে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বইমেলা ছাত্রছাত্রীদের বইমুখী করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি, সৃজনশীলতা ও জ্ঞানচর্চার পরিধি বাড়াতে বইয়ের বিকল্প নেই বলেও বিশেজ্ঞরা উল্লেখ করেন। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এই ধরনের শিক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর জ্ঞানভাণ্ডারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
  • Link to this news (News18 বাংলা)