নিত্যদিনের মতো সকালে মাঠে কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন বৃদ্ধ। বেজে উঠল মোবাইল। মেসেজ পড়ে অন্যজন জানালেন, “আপনার অপারেশন সফল হয়েছে”। খানিকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বাড়ি ছুটলেন বৃদ্ধ। মোবাইলের মেসেজ পড়ে বৃদ্ধের ছেলে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বুঝতে পারলেন, তাঁর বাবার সঙ্গে বড় জালিয়াতি হয়েছে। তাঁর মায়ের নামে ইস্যু হওয়া স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে বাবার অপারেশনের খরচ বাবদ কেটে নেওয়া হয়েছে কয়েক হাজার টাকা। এবার প্রকাশ্যে স্বাস্থসাথী কার্ড জালিয়াতি!
মেসেজ থেকে তথ্য জোগাড় করে স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমে গিয়ে উপস্থিত হন ওই বৃদ্ধ। প্রথমে হম্বিতম্বি করলেও শেষ পর্যন্ত রফা করে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বৃদ্ধের পরিবারকে। কোনওরকম সমঝোতায় নারাজ বৃদ্ধ সরাসরি খবর দেন পুলিশে। পুলিশ পৌঁছে আটক করেন জালিয়াত চক্রের মূল মাথা অভিযুক্ত বেসরকারি নার্সিংহোমের কর্মীকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তল্লাশি চালিয়ে নার্সিংহোমের অফিস থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ও কার্ড সংক্রান্ত একাধিক নথি। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নদিয়া জেলার তেহট্ট থানা এলাকার নাজিরপুরের এটি বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে এই প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, করিমপুর থানা এলাকার কিশোরপুরের বাসিন্দা সাত্তার আলী নামে এক বৃদ্ধের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড’কে আয়ুষ্মান কার্ডে পরিবর্তিত করে দেওয়ার নামে বাড়িতে আসে চারজন মহিলা।
বৃদ্ধের বাড়ি থেকে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ও প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি নিয়ে যায় ওই মহিলারা। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইলটিও বৃদ্ধের কাছ থেকে খানিকক্ষণের জন্য নিয়ে নেয় ওই মহিলারা। মহিলারা চলে গেলে প্রতিদিনের মতো মাঠে কাজে চলে যান বৃদ্ধ। সেখানে তার মোবাইলে একটি মেসেজ আসে। তার পাশেই কাজ করা এক যুবকের কাছে মেসেজটি দেখিয়ে বৃদ্ধ জানতে পারেন তার “অস্ত্রপচার সফল হয়েছে” বলে মেসেজ এসেছে।
বিষয়টি বুঝতে না পেরে ছুটে যান বাড়িতে। পরিবারের লোকজন মোবাইল থেকে জানতে পারেন বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি ও তার অস্ত্রোপচার দেখিয়ে নাজিরপুরের একটি বেসরকারি নার্সিং হোম ও স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থেকে বেশ কয়েক হাজার টাকা তুলে নিয়েছে। বৃদ্ধ কয়েকজন প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে ছুটে যান ওই নার্সিংহোমে। প্রথমে বিষয়টি পাত্তা না দিলেও পরবর্তীতে বৃদ্ধকে টাকার বিনিময়ে রক্ষা করে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় নার্সিংহোমের মালিক। বৃদ্ধ খবর দেন স্থানীয় থানায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। বৃদ্ধের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নার্সিংহোমে কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই নার্সিংহোমে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। উদ্ধার হয়েছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে বিমা পাওয়ার প্রয়োজনীয় নথি। ওই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডগুলি ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের আর্থিক প্রতারণা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।