সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছায়া এবার জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কলেজে। কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিয়ন রুম খুলতেই বেরিয়ে এল একের পর এক মদের বোতল। পাওয়া গেল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ও সিরিঞ্জ। এমনকী ইউনিয়ন রুমের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয়েছে মহিলাদের পোশাকও! আর তা সামনে আসতেই তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কলেজ চত্বরে। শুরু হয় বিক্ষোভ। অভিযোগ, অনৈতিক কাজকর্মের পাশাপাশি কলেজের এই রুমের মধ্যে বসত নেশার আসর। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন আপত্তিকর কাজকর্ম চলত বলে অভিযোগ। তবে এই ঘটনা সামনে আসতেই বেপাত্তা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতারা।
জানা যায়, এদিন সকালে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিয়ন রুমটি খোলেন কলেজের বেশ কয়েকজন পড়ুয়া। সেখানে ঢুকতেই একেবারে চক্ষুচড়ক অবস্থা হয় তাঁদের। দেখেন, ইউনিয়ন রুমের ভিতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মদের বোতল। এমনকী ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ এবং সিরিঞ্জ। ঘটনা সামনে আসতেই এদিন এবিভিপির তরফে শুরু হয় বিক্ষোভ। এবিভিপির এক সদস্যের দাবি, ইউনিয়ন রুম থেকে প্রচুর মদের বোতল, কাশির সিরাপ এবং সিরিঞ্জ উদ্ধার হয়েছে। এরপরেই কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছে এবিভিপি। শুধু তাই নয়, ওই ইউনিয়ন রুমটি সিলও করে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
গত কয়েকদিন আগেই শিয়ালদহ সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমের আলমারি থেকে টাকাভর্তি দু’টি ব্যাগ উদ্ধার হয়। ওই ব্যাগের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় বান্ডিল বান্ডিল টাকা। যদিও সেগুলির বেশিরভাগই উইপোকা খেয়ে নেয়। বিপুল এই টাকা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য-রাজনীতি। বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ অভিযোগ করেন, সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তির বিনিময়ে তৃণমূলের ছাত্রনেতারা কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন। এরমধ্যেই কলেজের মধ্যে একটি বিলাসবহুল ঘর সামনে আসে। আদ্যোপান্ত একটি সাধারণ ঘরকে স্বাচ্ছন্দ আর বিনোদনের কেন্দ্র বানিয়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে মিলেছে গর্ভনিরোধকের প্যাকেটও। সেই ছবি সামনে আসতেই একেবারে হুলস্থূল পড়ে যায়।