• সম্পর্কের টানাপড়েনেও হারায় না প্রকৃত ভালোবাসা
    এই সময় | ১০ জুন ২০২৬
  • প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘জনৈক কাপুরুষের কাহিনি’-তে ছিল হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়া দু’জন প্রেমিক-প্রেমিকার গল্প। বিবাহিতা মেয়েটির স্বামীর চরিত্রটি কিন্তু গল্পে অনুপস্থিত ছিল। আবার সত্যজিৎ রায়ের ‘কাপুরুষ ও মহাপুরুষ’-এ অন্য ছবি। উত্তরবঙ্গের একটি চা বাগানের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত-চিন যুদ্ধের আবহকে মুখ্য করে তুলে ধরা হয়েছিল সেই প্রেমের-ই এক টানাপড়েন। সেই প্রেম ফের কড়া নাড়ছে, শেখর সমাদ্দারের নতুন নাটক ‘কাপুরুষের কাহিনী’-তে।

    শেখর সমাদ্দারের কথায়, ‘প্রবাহমান প্রেমের ফল্গুধারা আজও বাসা বাঁধে মানুষের মনে। অজান্তে তা সংক্রামিত হয় হৃদয়েও। সেই তত্ত্ব যেমন সত্যি, তেমনই সময় পাল্টে গিয়েছে এটাও মানতে হবে সকলকেই। আমরা একে নিছক প্রেমের গল্প না রেখে ঝাড়খণ্ডের রুক্ষ পার্বত্য অঞ্চলকে তুলে এনেছি নাটকে। যেখানে আছে অরণ্যসম্পদের চোরাচালান এবং আদিবাসী নির্যাতন। বাইরের সেই অশান্ত আবহের ভেতরে চলে দুই পুরুষ ও এক নারীর সম্পর্কের টানাটানি। শেষ পর্যন্ত সকলেই যেখানে কাপুরুষতায় আক্রান্ত বলে প্রমাণ হয়।’ তিনি দাবি করছেন, ‘মঞ্চসজ্জা, আলো এবং আবহের মাধ্যমে আমরা সেই পরিবেশকে এবং তার ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক টানাপড়েনকে পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।’

    লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে পাশ করে দিল্লিতে বিরাট চার্টার্ড ফার্মে জীবন শুরু করেছিল বিমল গুপ্ত। দিল-খোলা দরাজ মানুষ। স্ত্রী করুণাকে খুবই ভালোবাসে। বিচ্ছিরি এক পরিস্থিতিতে তার চাকরি চলে যায়। ভাগ্যের অন্বেষণে ঘুরতে-ঘুরতে ঝাড়খন্ডের রুক্ষ-টিলা আর জঙ্গল-ঝরনার মধ্যে এক সিকিউরিটি ম্যানেজারের চাকরি পেয়ে আবার জীবন শুরু করে দেয় সে। নিঃসন্তান এই দম্পতির মধ্যে একটা অদৃশ্য দেয়াল হতে থাকে যেন। বিমলের আমুদে স্বভাব আর করুণার ততটাই চাপা আর নীরবতাময় অবস্থানের ছবি আরও জোরালো হতে থাকে। কাজের মেয়ে ফুলকিকে নিয়ে কাটে তার দিন। সে চেয়েছিল নিজের মতো একটা জীবন। ভালোবেসেছিল উঠতি সাহিত্যিক অমিতাভ রায়কে।

    বাবার জেদ-এর পরিণামে অচরিতার্থ রয়ে গেল তার নিজের মতো বাঁচার ইচ্ছে। এখন সে খামখেয়ালি স্বামীর হাতের পুতুল মাত্র। সেই নিস্তরঙ্গ জীবনে ঢেউ ওঠে এক বৃষ্টির রাতে, যখন পথে আটকে পড়া সফল চিত্রনাট্যকার অমিতাভ রায় সেই বাংলোয় আসে। আর করুণা? সে কি করবে এ বার? বিমলকে, তার সংসারকে ফেলে রেখে কি পালিয়ে যাবে অমিতাভর সঙ্গে? সেখানেও কি তার কোনও মুক্তি আছে? সুন্দর অভিনয় করেছেন সঞ্জীব সরকার, বিন্দিয়া ঘোষ, শেখর সমাদ্দার, সৌরভ মণ্ডল, শ্রেয়া মিত্র। মঞ্চ দেবব্রত মাইতির। নাটক ও নির্দেশনা শেখর সমাদ্দার। প্রযোজনায় আভাষ। নাটকটি মঞ্চস্থ হবে আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার সন্ধে সাড়ে ছ’টায়। তপন থিয়েটারে।
  • Link to this news (এই সময়)