কথা ছিল আরজি কর কাণ্ড নিয়ে ছবি করবেন পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘তিলোত্তমা’। উজ্জ্বলের পরিচালনায় Escape from Taliban (২০০৩), উত্থান (২০০৬), স্বভূমি (২০১৩)-র একগুচ্ছি ছবি রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছেন পরিচালক। চলতি বছর দুর্গাপুজোয় অন্যতম বড় চমক দিতে চলেছেন বলে ঘোষণাও করেছেন তিনি। বেশ কিছু বাংলা সিনেমার তালিকায় যুক্ত হতে পারে জয়া প্রদা অভিনীত ‘হীরক রানির দেশে’র নাম। ছবির নাম শুনে মাথার ভিতর বেশ কিছু বিষয় ঘুরপাক খেতেই পারে। কে এই ‘হীরক রানি’? কোনও বিশেষ ব্যক্তিত্বের কথা মাথায় রেখেই কি সাজানো হচ্ছে জয়ার চরিত্র? রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তন থেকে ‘ব্যান’ কালচার, কী বললেন অভিনেত্রী?
বাংলা ভাষায় তৈরি ‘হীরক রানির দেশে’ ছবিটি হিন্দিতেও তৈরি হবে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়েটিং ফর ইউ’। তবে ‘হীরক রানির দেশে’ ছবিতে রানির ভূমিকায় দেখা যাবে জয়া প্রদাকে। এ ছাড়াও রাজনন্দিনী পাল, অমৃতা চট্টোপাধ্যায়, বাদশা মৈত্র, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অনেকেই অভিনয় করছেন ছবির মুখ্য ভূমিকায়।
চলতি মাসেই শুটিং শুরু হওয়ার কথা ‘হীরক রাজার দেশে’ সিনেমার। পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন প্রান্তে শুটিং হবে বলেও জানা গিয়েছে। সিনেমায় তাঁর ভূমিকা প্রসঙ্গে জয়া বলেন, ‘সিনেমার টাইটেলই সব বলে দিচ্ছে। শুটিং শুরুর আগে তো আমার অনেক কিছু বলা বারণ, তবে সিনেমা মুক্তি পেলে আশা করি মানুষের ভালো লাগবে।’
দীর্ঘদিন পরে বাংলা সিনেমায় কাজ করতে চলেছেন জয়া। বাংলায় কাজ করা সবসময়ই তাঁর কাছে বাড়ি ফিরে আসার মতো। দর্শকও তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেছে সর্বদা। জয়ার কথায়, ‘দর্শক সবসময়ই আমায় ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছে। ঈশ্বরের এত আশীর্বাদ পেয়েছি, তাই নিজেকে খুব ভাগ্যবান বলে মনে হয় মাঝেমধ্যে। সবাই তো বাংলায় এতটা জায়গা পায় না।’
টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে কলাকুশলীদের ‘ব্যান’ কালচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এই ধরনের কালচার আর থাকবে না ইন্ডাস্ট্রিতে বলে বিশ্বাস জয়ার। প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবং পরবর্তীতে ২০০৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সমাজবাদী পার্টির সাংসদ হিসেবে ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি BJP-তে যোগ দেন। তাঁর কথায়, ‘একটা কথা বলতে পারি, এখন ভালো দিন এসেছে। অনেক সমস্যার সমাধান হবে। ইন্ডাস্ট্রিও অনেকটা এগিয়ে যাবে।’
পশ্চিমবাংলার সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পালাবদল প্রসঙ্গে জয়া বলেন, ‘আমি দিদিকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) খুব সম্মান করি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ভুল করলেও সেটাকে ঠিক বলব। যা যা খারাপ হয়েছে, সেগুলো ঠিক করা প্রয়োজন। ১৫ বছর খুব একটা কম সময় নয়। যদি নিজেদের ভুল যদি বুঝতে পারতেন, তা হলে এ রকম রেজ়াল্ট হতো না। মানুষও বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল খারাপ জিনিস দেখতে দেখতে। সকলেই জীবনের নিরাপত্তা চায়। আকাশের নীচে আনন্দের সঙ্গে বাঁচতে চায়। সেই জন্যই তো মানুষ এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের গর্ব একটাই, মোদীজির নেতৃত্বে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।’