আরও বিপাকে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার তাঁকে সমন পাঠাল ত্রিপুরার খোয়াই আদালত। অভিষেককে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। তাই নোটিস দেওয়া নিয়ে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে বেশ কিছুক্ষণ টানাপড়েন চলে। শেষ পর্যন্ত এক তৃণমূল নেতা সেই নোটিস গ্রহণ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে। দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা, জয়া দত্ত দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ত্রিপুরায়। সেখানে অশান্তি পাকানোর অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। এর পরেই ধৃতদের মুক্তির দাবিতে খোয়াই থানায় অবস্থানে বসেন অভিষেক, কুণালরা। পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা।
এর পরেই অভিষেকের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করে খোয়াই থানার পুলিশ। সেই মামলাতেই ত্রিপুরার খোয়াই থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার জন্য সমন পাঠানো হয়েছে। ত্রিপুরার খোয়াই আদালত থেকে সমন পাঠানো হয় আলিপুর আদালতে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে এ দিনই নোটিস তুলে দিতে হবে।
আলিপুর আদালত থেকে বিশেষ কর্মী (বেলিফ) যান কালীঘাট থানায়। সেখান থেকে তিনি যান কালীঘাটের বাড়িতে। কিন্তু সেখানে অভিষেক ছিলেন না। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছেন তিনি। তা হলে সমন কে নেবে? এই নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ টানাপড়েন চলে। সূত্রের খবর, শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের এক নেতা সেই সমন গ্রহণ করেছেন।
উল্লেখ্য, পরিষদীয় দলের সই জাল কাণ্ডের তদন্ত করছে সিআইডি। ইতিমধ্যে আভিষেককে তিন বার নোটিস পাঠিয়েছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত হাজিরা দেননি তবে। উল্টে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR খারিজের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই মামলায় রক্ষাকবচও চেয়েছেন তিনি। আগামী কাল তার শুনানি হবে। এর মধ্যেই ত্রিপুরা থেকে সমন এল অভিষেকের কাছে।