নাম থেকে সরেছে 'ধাম', এবারে কোন রীতি মেনে পুজো দিঘা জগন্নাথ মন্দিরে? জানুন
News18 বাংলা | ১১ জুন ২০২৬
মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় থেকে উঠেছিল বিতর্ক। দিঘা জগন্নাথ মন্দির নাকি দিঘা জগন্নাথ ধাম! প্রথম থেকেই ওড়িশা সরকারের দিঘার মন্দিরকে ধাম বলা নিয়ে প্রবল আপত্তি ছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার পড়শি রাজ্যের এই আপত্তিকে কানেই তোলেনি। ফলে দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের নাম সঙ্গে জুড়ে ছিল ধাম। অবশেষে এই বিতর্কের সমাধান হল। দিঘার বহুল চর্চিত জগন্নাথ মন্দির প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এক বড়সড় প্রশাসনিক ও ধর্মীয় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এতদিন যে প্রকল্পটিকে সাধারণ মানুষ ‘দিঘা জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে চিনে আসছিলেন, তা আর সেই নামে পরিচিত হবে না। ওড়িশা সরকারের আপত্তির পর এবার থেকে আনুষ্ঠানিক নাম হতে চলেছে ‘দিঘা জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।’
এক প্রশাসনিক বৈঠক শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আসা প্রস্তাব ও আপত্তির কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার ‘ধাম’ কথাটি এই প্রকল্প থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সনাতন ধর্ম ও শাস্ত্রীয় রীতির উল্লেখ করে বলেন “সারা ভারতবর্ষে মাত্র চারটি প্রধান ধাম রয়েছে, পুরী, বদ্রীনাথ, দ্বারকা এবং রামেশ্বরম। শাস্ত্র মতে, তার বাইরে নতুন করে কোনও স্থানকে ‘ধাম’ আখ্যা দেওয়া যায় না। আমরা সেই ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবাবেগকে সম্মান জানাই।”
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পটির সূচনা করেছিলেন এবং এটিকে ওড়িশার পুরীর আদলে ‘দিঘা জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছিলেন। আপত্তি জানায় ওড়িশা সরকার। পুরীর জগন্নাথ সংস্কৃতির নিজস্ব ঐতিহ্য এবং ‘ধাম’ শব্দের শাস্ত্রীয় গরিমা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় দুই রাজ্যের মধ্যে এই নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। তবে বর্তমান রাজ্য সরকার প্রথম থেকেই এই বিষয়ে নমনীয় ও বাস্তব সম্মত অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সরকারি খাতায় বা নথিপত্রে কখনওই এটিকে ধাম হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি, বরং শুরু থেকেই তার নাম ছিল ‘দিঘা জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার।’
সাধারণ মানুষের মুখের কথায় ‘ধাম’ শব্দটি জড়িয়ে গিয়েছিল, যা এখন সরকারিভাবে সংশোধন করা হচ্ছে। নাম বদলালেও বদলাবে না পুজোর নিয়ম। নাম থেকে ‘ধাম’ তকমা বাদ গেলেও, এই কেন্দ্রের ধর্মীয় গুরুত্ব কিন্তু একবিন্দুও কমছে না। মন্দির ট্রাস্টে সদস্যরা জানান, প্রতিদিন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পুজো ও আরতি অনুষ্ঠিত হবে। পুজোর সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান ও রীতিনীতি হুবহু ওড়িশার পুরী জগন্নাথ ধামের নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে। এটি মূলত একটি বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, যা ওড়িশা ও বাংলার ধর্মীয় মেলবন্ধনের প্রতীক হয়ে উঠবে।