এই সময়: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কায় জার্মানির অর্থনীতি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। ওই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজন ছিল অর্থের। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সে সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউরোপীয় পুনরুদ্ধার কর্মসূচি’ বা ‘মার্শাল প্ল্যান’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫১–র মধ্যে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সহায়তা প্রদান করা হয়, যার ১০ শতাংশ সরাসরি পশ্চিম জার্মানি পেয়েছিল। ওই তহবিলের মাধ্যমে জার্মানি খাদ্য, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি এবং জ্বালানি আমদানি করতে সক্ষম হয়, যা তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত কারখানা ও পরিবহণ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে সাহায্য করে।
দেনায় ডুবে থাকা বাংলাকে বাঁচাতে এরকমই কোনও মার্শাল প্ল্যানই যে প্রয়োজন সে কথা জানান নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি সরাসরি না বললেও সেই মার্শাল প্ল্যান যে কেন্দ্রীয় অর্থ সাহায্য, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন স্বপন। সামনেই রাজ্য বাজেট। নতুন কর ধার্য না করে রাজ্যের রোজগার বাড়ানোই যে তাঁর কাছে মূল চ্যালেঞ্জ, তা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। এমনকী, কর বাড়ালে রোজগার যে বাড়ে না, তাও মনে করেন ইতিহাসবিদ–অর্থমন্ত্রী।
এ দিন দায়িত্ব নিয়ে দপ্তরের অফিসারদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করার পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বপন। রাজ্যের ধুঁকতে থাকা অর্থনৈতিক হাল ফেরানোর জন্য তাঁর মূল রণকৌশল কী হতে চলেছে, তার একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। স্বপন সোজাসুজি জানান, সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে করের বোঝা না চাপিয়ে, বকেয়া রাজস্ব আদায়ের দিকে নজর দেওয়াই তাঁর প্রধান ও মূল লক্ষ্য। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার অনেক সময়ে রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণে এই রেভিনিউ পুরোপুরি আদায় করেনি বা করতে পারেনি। তার ফলে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যেখানে যেখানে ফাঁকফোকর তৈরি হয়েছে। সেগুলির মেরামতের কাজ শুরু করতে হবে।
রাজ্যের আয়ের উৎস নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বলতেও খারাপ লাগে যে আমাদের রাজ্যে মূল আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে মদ আর পেট্রল। ওটাকে আরেকটু প্রসারিত করতে হবে। অনেক জায়গায় রাজস্বের বড়সড় ঘাটতি রয়েছে, যেটাকে অনেকে চলতি ভাষায় ‘ট্রান্সমিশন লস’ বলে থাকেন। কোষাগারের সেই লিকেজগুলিকে আমাদের যতটা সম্ভব দ্রুত বন্ধ করতে হবে।’
রাজ্য বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে বড় সমস্যা হলো জিএসটি। কারণ জিএসটি-র বিষয়টি এখন পুরোপুরি রাজ্যের হাতে নেই, তা নির্ধারিত হয় জিএসটি কাউন্সিলের মাধ্যমে। ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বপন তিনি বলেন, ‘সব জিনিসের আলোচনা বা সমাধান তো আর একদিনে হয় না। এটি অত্যন্ত জটিল একটি বিষয়। তবে আমি সমস্যাটা খুব ভালো করেই জানি।’