• কেন রাজ্য ছেড়েছে এত শিল্প! তালিকা চান তাপস
    এই সময় | ১১ জুন ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্যে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে শিল্পই ভবিষ্যৎ— এ কথা বারবার বলেছেন‍ বিজেপি নেতৃত্ব। ক’দিন আগে বঙ্গ–বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একটি বণিকসভার অনুষ্ঠানে গিয়ে দলের ভিশনের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, সিঙ্গুর থেকে চলে যাওয়া টাটাদের ফের সিঙ্গুরেই ফেরানো হবে। বুধবার রাজ্যের শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে বর্ষীয়ান রাজনীতিক তাপস রায়ও জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলনের জেরে সিঙ্গুর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হওয়া টাটাদের ফিরিয়ে আনাই এখন রাজ্যের নয়া সরকারের টপ প্রায়োরিটি।

    এ দিন দায়িত্বভার নিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজনে আমি নিজে যাব টাটাদের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে। সিঙ্গুরে টাটারা যদি কারখানা করতে চায়, তবে তারা করতেই পারে। কিন্তু শুধু তো গাড়ি কারখানা নয়, টাটাদের আরও অনেক ধরনের ব্যবসা আছে। আমরা সর্বতো ভাবে চেষ্টা করব, তারা যাতে এখানে সেই সমস্ত ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগ করে। যোগ্যতা অনুযায়ী আমাদের তরুণ প্রজন্ম যাতে কাজ পান, সেটার ব্যবস্থা করাই লক্ষ্য। এটা আমাদের সরকারের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ।

    নতুন দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই অফিসারদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তাপস নির্দেশ দেন, রাজ্য থেকে চলে যাওয়া শিল্পপতি বা শিল্পগোষ্ঠীদের তালিকা তৈরি করতে হবে দ্রুত। টাটার সঙ্গে সঙ্গে নানা কারণে ৬,৬৮৮ জন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছেন বলে কয়েক মাস আগে একটি রিপোর্টেই উঠে এসেছিল। এই শিল্পপতিদেরই তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিল্প দপ্তরের আধিকারিকদের। তাপসের বক্তব্য, ‘ঠিক কী কারণে তাঁরা বাংলা থেকে শিল্প গুটিয়ে নিতে বাধ্য হলেন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। এঁদের ফিরিয়ে আনতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী–সহ রাজ্য সরকারের মূল ভাবনা হলো, বিনিয়োগকারীদের পশ্চিমবঙ্গমুখী করা এবং রাজ্যকে বিগত দিনের মতো প্রকৃত শিল্পবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা। যাতে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীরা রাজ্যে আসেন।’

    পাশাপাশি শিল্প দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে নতুন মন্ত্রী জানতে চেয়েছেন, বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে যে সমস্ত মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেগুলির বর্তমান অবস্থা কী? শুধু কাগজে-কলমে হয়েছিল, নাকি তার কিছু অংশের বাস্তবায়ন হয়েছে। হলে কতগুলো হয়েছিল? এ নিয়ে দপ্তরের অফিসারদের বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে বলেছেন প্রবীণ এই মন্ত্রী।

    বণিকসভায় শমীকের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সুরেই এ দিন তাপস বলেন, ‘শিল্পের জন্য জমিজট কাটাতে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই একটি স্বচ্ছ জমি অধিগ্রহণ পলিসি বা ল্যান্ড পলিসি তৈরি করা হচ্ছে।’ রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারের শিল্পনীতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর আক্ষেপ, ‘রাজ্যে গত পনেরো বছরে শিল্পও হলো না, আর কৃষিও হলো না! বিজিবিএস–এর নামে কী সব করেছেন! বিজিবিএস আসলে স্রেফ লোক দেখানো ছিল। মানুষকে ভাঁওতা দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল। আমরা অবশ্যই শিল্পের জন্য সম্মেলন করব, তবে সেটা কী ভাবে এবং কতখানি কাজের হবে, তা পরে ঠিক হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)