এই সময়: কলকাতা পুরসভার প্রাক–বর্ষা প্রস্তুতি বৈঠকে যোগ দিলেন পদত্যাগী মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বুধবার দুপুরে এই বৈঠক হয় দক্ষিণ কলকাতার লেক টেরেস রোডের বিবেকানন্দ পার্ক লাগোয়া উদযাপন কমিউনিটি হলে। দক্ষিণ কলকাতার পার্ক স্ট্রিট থেকে গড়িয়া পর্যন্ত (৬ থেকে ১০ নম্বর বরো) এবং বন্দর এলাকা (১৫ নম্বর বরো)–র বিভিন্ন ওয়ার্ডে কী ভাবে বর্ষায় জল জমা আটকানো যায়—তা নিয়ে আলোচনা হয়।
মেয়র পদে ইস্তফা দিলেও ফিরহাদ এখনও চেতলার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার এবং কলকাতা পোর্ট এলাকার বিধায়ক। সূত্রের খবর, বৈঠকে ফিরহাদ তাঁর নিজের ৮২ নম্বর ওয়ার্ড এবং কলকাতা পোর্ট বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত বিভিন্ন ওয়ার্ডে জল জমা রোধে কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা নিয়ে কিছু পরামর্শ দেন। বৈঠকে পুর–প্রশাসক স্মিতা পান্ডে, পুরসচিব কিশোরকুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পরে পুর–প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডে বলেন, ‘প্রাক্তন মেয়র যে–সব প্রস্তাব দিয়েছেন, আমরা তা নোট করেছি।’
গত শুক্রবার মেয়র পদে ইস্তফা দিয়ে কলকাতা পুরসভার সদর কার্যালয় ছাড়েন ফিরহাদ। পদত্যাগের চার দিনের মাথায় এই প্রথম তিনি পুরসভার কোনও বৈঠকে যোগ দিলেন। ফিরহাদ মেয়র থাকার সময়ে বন্দর এলাকায় জল জমার সমস্যা নিয়ে নিকাশি বিভাগের মেয়র পারিষদ তারক সিংয়ের সঙ্গে তাঁর মন কষাকষির কথা অনেকের জানা। আবার নিজেই উদ্যোগী হয়ে সেই মন কষাকষি মিটিয়েও নিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, কলকাতা পোর্ট এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বর্ষার সময়ে কেন জল জমে, কোন রাস্তায় জল জমার আশঙ্কা থাকে, কী ভাবে দ্রুত সেই জল সরানোর ব্যবস্থা করা যায়—বৈঠকে ফিরহাদ সে সব বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানান। বৈঠক থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো আলোচনা হয়েছে।’
বৈঠকে দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় কী ভাবে বৃষ্টির জল জমার সমস্যা তৈরি হয়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কোন কোন ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের কী পরিস্থিতি তা নিয়েও কথা হয়। কোন কোন ওয়ার্ডে দ্রুত জল সরানোর জন্যে অতিরিক্ত পাম্প ভাড়া করার প্রয়োজন রয়েছে—তা নিয়েও নিকাশি বিভাগের আধিকারিকরা পুর–কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানান। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডের পুর–প্রতিনিধি এবং বিধায়করা বৈঠকে ছিলেন। এর আগে টালার মোহিত মৈত্র মঞ্চে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রাক–বর্ষা প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।