দিল্লির মালব্য নগরের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হলো আরও এক জনের। মৃত এক জন বাংলাদেশি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। এই নিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হলো ২৩ জনের।
প্রসঙ্গত, গত ৪ জুন আগুন লাগে দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগর এলাকার ‘ফ্লোরিশ ইন স্টে’ নামের হোটেলে। ওই হোটেলের নীচের তলায় একটি রেস্তোরাঁ এবং উপরের তলাগুলিতে থাকার জন্য ঘর ছিল। নিয়ম না মেনে ওই ঘরগুলি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। এছাড়াও নিয়ম না মেনেই হোটেলটি চলছিল বলেও অভিযোগ। এই নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে দিল্লির পুলিশ এবং প্রশাসন।
ওই হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত সপ্তাহেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাইজেরিয়ার এক নাগরিকের মৃত্যু হয়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তাঁর মতো চিকিৎসাধীন ছিলেন রেহানা আখতার (৩৮) নামে ওই বাংলাদেশি নাগরিকও। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) অনন্ত মিত্তাল জানিয়েছেন, বুধবার মৃত্যু হয় ওই বাংলাদেশি নাগরিকের। এই নিয়ে এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মৃতদের মধ্যে ১৪ জনই বিদেশি নাগরিক।
জানা গিয়েছে, স্বামীর চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন রেহানা। তাঁর স্বামী মোশারফ হোসেনের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। এই জন্য গত ২ জুন স্বামী এবং অন্যান্য আত্মীয়দের নিয়ে ঢাকা থেকে দিল্লি এসেছিলেন রেহানা। তাঁরা খাওয়ার জন্য গিয়েছিলেন সাকেত এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাছাকাছি অবস্থিত ওই ‘ব্রেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ (B&B) হোটেলে। ওই হোটলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগেই মৃত্যু হয়েছিল রেহানার ভাই নুরুল আমিনের।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজ এবং হোটেলর দুই কর্মীকে। বুধবারই লভকেশ-সহ দু'জনের ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির আদালত।