ফের নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক দেশে। প্রাথমিক পরীক্ষা রিপোর্টে কেরালার কোঝিকোডের ফেরোকে এলাকার এক ব্যক্তির শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। বর্তমানে তিনি কোঝিকোডের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানেই তাঁকে কোয়ারানটাইনে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তবে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির ফাইনাল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। আজ, বৃহস্পতিবারই সেই চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার কথা। কেরালার ওই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি মেলায় বিশেষ সতর্কতা করা হয়েছে রাজ্য জুড়ে।
সূত্রের খবর, আক্রান্ত ব্যক্তি প্রথমে কেরালার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আউটপেশেন্ট বিভাগে যান এবং হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ঘোরেন। এর ফলে তিনি বহু মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।
চিকিৎসকদের সন্দেহ, কোনও গুদাম ঘর পরিষ্কার করার সময়েই ওই ব্যক্তি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তবে সংক্রমণের আসল উৎস এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে বৃহস্পতিবার কোঝিকোডে একটি মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি কোঝিকোডের জেলাশাসকের সভাপতিত্বে আরও একটি পর্যালোচনা বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে কন্টেনমেন্ট জ়োন ঘোষণা ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ লাগু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের খোঁজা শুরু হয়েছে। কেরালা স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে মুরলীধরণ জানিয়েছেন, ওই রোগী অনেকের সংস্পর্শে এলেও এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। আগাম সতর্কতা হিসেবে, হাসপাতালের যে সব কর্মী ওই রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের কোয়ারানটাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবার তিরুবনন্তপুরমে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দপ্তরে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকও ডাকা হয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের শুরুতে বঙ্গে নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছিল। তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যুও হয়েছিল। অন্য জন বর্তমানে সুস্থ।