বাংলায় ডিমের কত 'ডিমান্ড'! ডিম পচানোর হিড়িক, দাম বেড়ে সাড়ে ৭ টাকা
আজ তক | ১১ জুন ২০২৬
রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’ এখন যেন নতুন প্রতিবাদের ভাষা। আর তারই মধ্যেই বাজারে হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে ডিমের দাম। কিছুদিন আগেও যেখানে একটি ডিমের দাম ছিল প্রায় ৬ টাকা, সেখানে এখন অনেক জায়গায় তা পৌঁছে গিয়েছে সাড়ে ৭ টাকায়। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য হিসেবে ডিমের উপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষও চাপে পড়েছেন।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রচারে মাছ-মাংস নিয়ে যত আলোচনা হয়েছিল, ডিম তখন কার্যত উপেক্ষিতই ছিল। কিন্তু ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একের পর এক বিক্ষোভে নেতা-মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা সামনে আসতেই এই সাধারণ খাদ্যপণ্য নতুন রাজনৈতিক তাৎপর্য পেয়ে যায়। কোথাও টাটকা, কোথাও পচা ডিম, প্রতিবাদের অস্ত্র হিসেবে ডিমের ব্যবহার বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, ডিমের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে এই রাজনৈতিক ঘটনাগুলির সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই।
এই রাজনৈতিক আবহের প্রভাব পড়েছে বাজারের আলোচনাতেও। কারণ একই সময়ে ডিমের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ব্যবসায়ীদের মতে, কিছুদিন আগেও ৩০টি ডিমের একটি ট্রে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। এখন সেই দাম ২০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। খুচরো বাজারে যেখানে একটি ডিম ৬ টাকায় বিক্রি হত, এখন তা ৭ থেকে সাড়ে ৭ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের খরচও বেড়েছে।
ডিমের বাজারে দাম বৃদ্ধির মূল কারণ উৎপাদন খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। ওয়েস্ট বেঙ্গল পোলট্রি ফেডারেশনের অন্যতম কর্তা এবং ন্যাশনাল এগ কো-অর্ডিনেশন কমিটির রাজ্য চেয়ারম্যান মদনমোহন মাইতি জানিয়েছেন, গত এক মাসে পশুখাদ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন খোলের দাম ৪১-৪২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৮ টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে বেড়েছে বাদাম, সূর্যমুখী ও তিলের খোলের দামও। ফলে পোলট্রি খামার মালিকদের উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে।
তিনি জানান, এই পরিস্থিতিতে ডিমের দাম বাড়ানো ছাড়া উৎপাদকদের আর কোনও উপায় নেই। যদিও মুরগির মাংসের উৎপাদন খরচও বেড়েছে, কিন্তু গরমের কারণে চাহিদা কম থাকায় মাংসের দাম সে হারে বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে পোলট্রি শিল্পে লোকসানের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে গরমকালে সাধারণত ডিমের আকার কিছুটা ছোট হয়ে যায়। ফলে অনেক ক্রেতাকেই আগের তুলনায় বেশি ডিম কিনতে হচ্ছে। তার উপর দাম বৃদ্ধির জেরে সংসারের খরচ আরও বেড়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজনৈতিক বিক্ষোভে ডিম ব্যবহারের কারণে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে চাহিদা বেড়েছে ঠিকই, তবে রাজ্যজুড়ে ডিমের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ তা নয়। তবে প্রতিবাদে ব্যবহারের জন্য পচা ডিমের চাহিদা কিছু জায়গায় বাড়ছে বলেও স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, এই চাহিদা স্থানীয়ভাবে কিছু অতিরিক্ত বিক্রির সুযোগ তৈরি করলেও সামগ্রিক বাজারে তার প্রভাব খুবই সীমিত।