নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তৃণমূল জমানায় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এক কাউন্সিলারের একাধিক আত্মীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ হয়েছেন। ওই কাউন্সিলার নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের ঘনিষ্ঠরাও অনিয়ম করে চাকরি পেয়েছেন। এছাড়া এক ছাত্রনেতাও নিয়োগে বড়ো ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর আত্মীয়ও চাকরি পেয়েছেন। এমনই অভিযোগ করে পুরো ঘটনার তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি। বিজেপির দাবি, ওই ছাত্রনেতা শুধু নিয়োগ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতেন। কোনো কাজ না করেও মাত্র কয়েক বছরে তিনি আর্থিকভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। দামি চারচাকা গাড়িতে চলাফেরা করেন। তাঁর লাইফস্টাইলও ছিল চোখে পড়ার মত।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিয়োগে দুর্নীতি করা হয়েছে। শূন্যপদ বেরনোর আগেই কারা চাকরি পাবে, তার তালিকা তৈরি হয়ে যেত। ওই কাউন্সিলার এবং ছাত্রনেতাকে বাদ দিয়ে কোনো কিছুই হত না। কাউন্সিলারের ভয়ে থাকতেন অনেক আধিকারিকও।
সংঘের নেতা তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত শ্রীমন্ত মল্লিক বলেন, ২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত যত নিয়োগ হয়েছে, সবগুলির তদন্ত হওয়া দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২কোটি টাকা উধাও হয়ে গেল। এই চক্রের মাস্টারমাইন্ডরা এখনো অধরা রয়ে গিয়েছে। তদন্ত করে মূলচক্রীদের গ্রেপ্তার করা দরকার।
বিজেপির দাবি, নিয়ম মেনে কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞাপন দিত। ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য ছেলেমেয়েরা ভিড় করত। কিন্তু তালিকায় তৃণমূলের ঘনিষ্ঠদেরই নাম থাকত। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তৃণমূল নেতাদের পরিবারের লোকজন ছাড়া আর কেউ কি যোগ্য ছিল না? তৃণমূল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও কালিমালিপ্ত করেছে। কয়েক মাস আগেও বিভিন্ন পদে নিয়োগ হয়েছে। প্রতিটিতেই তৃণমূল নেতাদের আত্মীয়রা পেয়েছেন। যোগ্য চাকরি প্রার্থীরা বঞ্চিত থেকে গিয়েছেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ওই নেতাও কীভাবে এত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন, সেটাও তদন্ত করা দরকার। কে হস্টেল পাবে আর কে পাবে না, সেটা তিনি ঠিক করতেন। এছাড়া ছাত্রছাত্রী ভর্তিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল। রাজ্যের এক প্রভাবশালীর হাত ওই নেতার মাথার উপর থাকায় তিনি সর্বত্র ছড়ি ঘোরাতেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অন্য গোষ্ঠীর নেতারাও তাঁকে সমঝে চলতেন।
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় স্বশাসিত একটি সংস্থা। সেখানে কর্তৃপক্ষই নিয়োগ করে। এক আধিকারিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করলে কোঁচে খুড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়বে। শুধু তৃণমূল নয়, বাম জমানা থেকেই অনিয়ম শুরু হয়েছে। যোগ্যরা চাকরি না পাওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ রয়েছে।