• শংসাপত্রে ‘সাইনিং অথরিটি’ নিয়ে পুরদপ্তরের দ্বারস্থ কলকাতা পুরসভা
    বর্তমান | ১১ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত কলকাতা পুরবোর্ড ভেঙে দিয়েছে রাজ্যের নতুন সরকার। পুরবোর্ড সরিয়ে বসানো হয়েছে প্রশাসক বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। পুর- কমিশনার স্মিতা পান্ডেকেই প্রশাসক হিসাবে নিযুক্ত করেছে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের দপ্তর। কিন্তু কলকাতার বাসিন্দাদের নানা ধরনের শংসাপত্রের ‘সাইনিং অথরিটি’-কে হবেন, তা এখনও স্পষ্ট করেনি দপ্তর। কাউন্সিলারদের নিয়মিত বহু শংসাপত্র দিতে হয়। নাগরিকের প্রয়োজনে বিভিন্ন কাগজ বা নথিতে সই করতেও হয়। কিন্তু পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ায় এবং প্রশাসক নিয়োগ হওয়ায় কাউন্সিলারদের সেই ‘সাইনিং অথরিটি’ আর থাকছে না। সেক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরে এই ধরনের শংসাপত্রগুলি কে ইস্যু করবেন, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় বুধবার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী তথা দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করবেন। খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশাবাদী তিনি।

    এদিন বিবেকানন্দ পার্কে কলকাতা পুরসভার উদযাপন কমিউনিটি হলে বর্ষার প্রস্তুতি বৈঠক ডেকেছিলেন কমিশনার তথা প্রশাসক। সেখানে জনপ্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বন্দরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। আরও পাঁচজন প্রাক্তন কাউন্সিলার উপস্থিত ছিলেন। গরহাজির ছিলেন বালিগঞ্জ এবং রাসবিহারী কেন্দ্রের বিধায়কসহ বহু প্রাক্তন কাউন্সিলার। বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর আর তাঁরা কাউন্সিলার নন। তাহলে কীসের ভিত্তিতে বৈঠকে এসেছিলেন? এই প্রসঙ্গে শাম্মি জাহান বলেন, ‘প্রাক্তন কাউন্সিলার হিসাবেই এসেছিলাম। প্রশাসনিক বৈঠকে বর্ষা সংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। এলাকার মানুষের দাবি জানিয়েছি।’ গরহাজির থাকা একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলারদের বক্তব্য, ‘আমরা এখন আর জনপ্রতিনিধি নই। তাই ওই বৈঠকে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। সরকারি অফিসাররা যখন সবকিছু করতে পারেন, তাঁরাই করুন!’ স্মিতা পান্ডে বলেন, ‘পুরবোর্ড ভাঙার আগেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তাই কেউ কেউ এসেছিলেন। নাগরিক শংসাপত্রের বিষয়টি গুরুতর। সে বিষয়ে আমি দপ্তরে কথা বলব। সাইনিং অথরিটির বিষয়টি নিয়ে দপ্তরই সিদ্ধান্ত নেবে।’

    উল্লেখ্য, রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে পোস্টমর্টেমের জন্য শংসাপত্র, নানা রকম সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হয় কাউন্সিলারদের। এখন তাঁদের এই ক্ষমতা না থাকায় এসব সার্টিফিকেট নাগরিকরা কীভাবে পাবেন, সেই প্রশ্নেই ধন্দ বাড়ছে। এক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়, কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলারদের পাশাপাশি সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন শহর কলকাতার আম জনতা।
  • Link to this news (বর্তমান)