• হাওড়া স্টেশনে যাত্রীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে খুন, অভিযুক্ত কুলি
    বর্তমান | ১১ জুন ২০২৬
  • শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: হাওড়া স্টেশনে কুলির হাতে খুন হলেন এক যাত্রী। বচসার জেরে বিহারের চম্পারনের বাসিন্দা জাহাঙ্গির খানকে (৪১) মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়। ব্যস্ত স্টেশন চত্ত্বরে এই খুনের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়ায়। রবিবার দুপুর তিনটে নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত কুলি সঞ্জয় যাদবকে সোমবার রেল পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই যাত্রী জাহাঙ্গির খানের কাছ থেকে মোবাইল চেয়ে নিয়ে নিজের স্ত্রীকে ফোন করে অশ্রাব্য গালিগালাজ করছিল সঞ্জয়। জাহাঙ্গির তার প্রতিবাদ করলে সঞ্জয় খেপে গিয়ে আচমকাই লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। খুনে ব্যবহৃত লাঠিটি উদ্ধার করেছে জিআরপি।  

    রেল পুলিশ সূত্রে খবর, চম্পারণের বাসিন্দা জাহাঙ্গির চেন্নাইতে কাজ করেন। সেখান থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। দক্ষিণ ভারত থেকে বিহার যাওয়ার সরাসরি ট্রেন পাননি। চেন্নাই থেকে ট্রেন ধরে রবিবার সকালে হাওড়া স্টেশনে নামেন। এখান থেকে ট্রেন ধরে চম্পারণ যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু বিহারগামী ট্রেনের দেরি থাকায় নিউ কমপ্লেক্সের কাছে প্ল্যাটফর্মের ধারে বসে ছিলেন। সেখানেই সঞ্জয় যাদব নামে ওই কুলির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। 

    দু’জনেই বিহারের বাসিন্দা হওয়ায় আলাপ জমে ওঠে। দু’জনে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করে। কথায় কথায় সঞ্জয় বলে, কাজের চাপে তার বাড়ি যাওয়া হয় না। এরপর স্ত্রীকে ফোন করবে বলে জাহাঙ্গিরের থেকে মোবাইলটি চেয়ে নেয় সঞ্জয়। জাহাঙ্গির খেয়াল করেন, স্ত্রী’র সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেছে সঞ্জয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। তিনি এর প্রতিবাদ করেন।

    কিন্তু তাঁর কথায় কান দেয়নি অভিযুক্ত সঞ্জয়। উলটে কুশব্দের ব্যবহার আরও বাড়িয়ে দেয়। এই সময় তার কাছ থেকে মোবাইলটি কেড়ে নেন জাহাঙ্গির। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সঞ্জয় একটি লাঠি দিয়ে জাহাঙ্গিরকে বেধড়ক মারতে শুরু করে। সজোরে মাথায় আঘাত করা হয় জাহাঙ্গিরকে। অচৈতন্য হয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পালিয়ে যায়

    অভিযুক্ত কুলি। আরপিএফ এবং জিআরপি কর্মীরা ওই যাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ঘণ্টা চারেক পরে তাঁর মৃত্যু হয়। 

    রেল পুলিশ খবর দেয় জাহাঙ্গিরের পরিবারকে। বাড়ির লোকজন এসে ওই যাত্রীকে শনাক্ত করেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে হাওড়া জিআরপি। তদন্তে নেমে যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নেওয়া হয়। তা বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এক ব্যক্তি ওই যাত্রীকে লাঠি দিয়ে মারধর করছে। পরপর চারবার আঘাত করা হয় জাহাঙ্গিরকে। ওই ছবি দেখে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে রেল পুলিশ। জানা যায়, সে পার্সেল বিভাগে মালপত্র বহনের কাজ করে। পার্সেল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, তার নাম সঞ্জয় যাদব। সে হাওড়া স্টেশনেই থাকে। এরপর সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
  • Link to this news (বর্তমান)