ভাস্করের হাতে শ্রম ও জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যদপ্তর পেয়ে নজির সুমনার, হুগলিতে দু’জন মন্ত্রী, দপ্তর তিন
বর্তমান | ১১ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির বিধায়ক তথা রাজ্যের দুই মন্ত্রী পেলেন তিনটি দপ্তরের দায়িত্ব। শ্রীরামপুরের বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য পেয়েছেন শ্রম এবং পিএইচই দু’টি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর ভার। অন্যদিকে, বলাগড়ের নেত্রী সুমনা সরকার পেয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পেয়ে হুগলি জেলায় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে। এবার একটিও পূর্ণমন্ত্রী পায়নি জেলা। যা নিয়ে হুগলির নানা মহলে আক্ষেপ ছিল। এদিন তিনটি দপ্তরের মন্ত্রীর জেলা হয়ে যাওয়ায় তাঁদের আক্ষেপ অনেকটাই মিটেছে।
ওয়াকিবহাল মহল বলছে, শ্রীরামপুর মহকুমা তথা হুগলি জেলার শিল্পবলয়ে ডামাডোল চলছে। সেই জেলা থেকে শ্রমদপ্তরের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। পাশাপাশি, এদিন একটি বিশেষ সমাপতনও ঘটিয়েছে ভাস্করবাবুর দায়িত্বপ্রাপ্তি। এমনিতেই ৪৯ বছর পর শ্রীরামপুরের কোনো বিধায়ক মন্ত্রী হয়েছেন। এখান থেকে শেষ মন্ত্রী হয়েছিলেন ডাঃ গোপাল দাস নাগ, তিনিও শ্রমমন্ত্রী ছিলেন। আবার, স্বাধীনতার পর বলাগড় থেকে দলমত নির্বিশেষে কোনো বিধায়ক কখনও মন্ত্রী হননি। সেই নিরিখে সুমনা মন্ত্রী হয়ে আগেই ইতিহাস গড়েছিলেন। এবার স্বাস্থ্যের মতো হাই-প্রোফাইল দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় বলাগড়ের গৌরবের মুকুটে বাড়তি পালক জুড়ল। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রবীণ ভাস্করবাবু বলেন, অত্যন্ত গুরুদায়িত্ব। বহু বছর ধরে শ্রমনির্ভর হুগলি জেলায় শিল্প ও শ্রমিকের সংকট বড়ো আকার নিয়েছে। সেই দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসাবে কাজ করা বাড়তি চ্যালেঞ্জ। আবার, বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দিতে বিরাট কর্মযজ্ঞ চালানো হবে। তাই পিএইচই দপ্তরের কাজও বিপুল বলতে হবে। অন্যদিকে, তরুণতুর্কি সুমনা বলেন, স্বাস্থ্য একটি প্রাত্যহিক এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা। সেই দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হওয়া যেমন সম্মানের, তেমনই বিরাট বড়ো দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন। তাঁর এবং দলের বিশ্বাস রক্ষা ও মানুষের ভরসা অর্জনের কাজে কোনো ত্রুটি হবে না।
রাজনৈতিক মহল বলছে, ভাস্কর এবং সুমনা দু’জনেই বিশ্বাস ও আনুগত্যের মাপকাঠিতে বড় দায়িত্ব পেয়েছেন। বাংলার বিজেপির অন্যতম পুরানো কর্মকর্তাদের একজনের নাম ভাস্কর ভট্টাচার্য। সঙ্ঘঘনিষ্ঠ ভাস্করবাবু বহুবছর ধরে একই পথের পথিক। স্পষ্টবক্তা, আদর্শবাদী, রাশভারী মানুষটি একাধিক সময়ে জেলা ও রাজ্যে দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। একাধিক নজির গড়ে তাই তিনি ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের ডবল মন্ত্রীপদ পেয়েছেন। সুমনা একদা তৃণমূলের নেত্রী ছিলেন। সেই সময় মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। তখন তাবড় তাবড় আরও নেতা পদ্মশিবিরে ভিড়লেও ২০২১ সাল বিজেপির ভরাডুবির পর সিংহভাগই ফিরে গিয়েছিলেন তৃণমূলে। এমনকি, মুকুল রায়ও। কিন্তু ফেরেননি সুমনা। পদ্মপ্রতীক আঁকড়ে ভাঙন কবলিত বলাগড়ের মাটি কামড়ে পড়েছিলেন। দলের প্রতি সেই আনুগত্যের পুরস্কার পেয়েছেন সুমনা। দলের স্বাস্থ্য ও মুখরক্ষা করতে রাজ্যবাসীর স্বাস্থ্যের দায় তাঁকে সঁপেছেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য।