• তৃণমূল নেতাকে শুভেন্দুর ছবি উপহার, কর্মী অসন্তোষে প্রকাশ্য রাস্তায় হাতাহাতি বিজেপির
    বর্তমান | ১১ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শহর তৃণমূলের সভাপতির হাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি তুলে দিলেন দক্ষিণ দমদমের বিজেপি নেতা গৌতম সাহা মণ্ডল কর্মীদের একাংশ। তা নিয়ে সোমবার বিজেপির অন্দরে প্রবল বিতর্ক। যা ক্রমে দুই গোষ্ঠীর অশান্তিতে পরিণত হয়। মঙ্গলবার রাতে দমদম রোডে বচসা গড়ায় হাতাহাতিতে। মারপিটের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। এক মহিলা সহ বেশ কয়েকজন আহত হন। কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে দমদম রোড। তবে কোনো পক্ষই পুলিশে অভিযোগ জানায়নি। 

    এর পাশাপাশি অন্য একটি ঘটনায় উত্তর দমদমের এক মণ্ডল সভাপতি, কিষান মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য সহ তিনজনকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে বিজেপি। 

    তবে সবথেকে বেশি শোরগোল ফেলেছে দক্ষিণ দমদমের ঘটনাটি। জানা গিয়েছে, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুকান্ত সেনশর্মা ওরফে রাজু দমদম বিধানসভা অঞ্চলের শহর তৃণমূল সভাপতি পদে আছেন। সোমবার দক্ষিণ দমদমের বিজেপি নেতা গৌতম সাহা মণ্ডলের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীদের একাংশ রাজুবাবুর ওয়ার্ড অফিসে গিয়ে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর বড়ো একটি ছবি উপহার দেন। উপস্থিত মহিলা বিজেপি কর্মীরা শাঁখ বাজান ও উলুধ্বনি দেন। সেই ভিডিয়ো গৌতমবাবু সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে বিতর্কের ঝড় ওঠে। রাজুবাবুকে কৌশলে বিজেপিতে ঢোকানো হল কি না প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন বেদিয়াপাড়ার বিজেপি কর্মী কৃষ্ণ সাহু ও বিজেপির পুরনো কর্মীরা। কৃষ্ণবাবু ভোটে বিজেপির বুথ ও কাউন্টিং এজেন্ট ছিলেন। তাঁকে রাজুবাবুর নেতৃত্বে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সমাজমাধ্যমে এসব কথা লেখা হয়। তারপর পাল্টা একটি পোস্ট করেন গৌতমবাবু। তিনি সমাজমাধ্যমে ব্যাখ্যা দেন, কেন তিনি রাজুবাবুকে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দিয়েছেন। সেই পোস্টে তিনি কৃষ্ণবাবুর উদ্দেশে লেখেন, রাজু সেন শর্মা মেরেছিল এটা যেমন সত্যি, তেমন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ফুচু হাসপাতালে ভর্তির টাকা দিয়েছিল। 

    এরপরই বিতর্ক চরমে ওঠে। কৃষ্ণ সাউ প্রকাশ্যে দাবি করেন, তাঁর চিকিৎসার টাকা ফুচু দিয়েছে এটা গৌতমবাবুকে প্রমাণ করতে হবে। তারপর মঙ্গলবার বিকেলে দমদম রোডে গৌতমবাবুর বাড়ির সামনে গিয়ে লাইভ ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে গৌতমবাবুকে চ্যালেঞ্জ জানান। রাত ন’টা নাগাদ কয়েকজনকে নিয়ে ফের দমদম রোডে আসেন তিনি। তারপরই গৌতমবাবুর সঙ্গে বচসা শুরু। কিছু পরে গৌতমবাবুর অনুগামীদের সঙ্গে তুমুল মারপিট শুরু হয় কৃষ্ণবাবুর অনুগামীদের। মহিলা কর্মীরাও হাতাহাতিতে জড়ান। এর ফলে দীর্ঘ সময় দমদম রোডে যান চলাচল বন্ধ থাকে। শেষে নাগেরবাজার থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। মারামারিতে আক্রান্ত এক মহিলাকে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি অনির্বাণ সমাজপতি বলেন, ‘মতবিরোধ থেকে তর্কবিতর্ক হয়েছে। দলের ভিতরের বিষয়। উচ্চ নেতৃত্ব আলোচনা করে সমস্যা মিটিয়ে দেবে।’ 

    অন্যদিকে, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দমদম উত্তর বিধানসভার ২ নম্বর সভাপতি পিঙ্কি পাল, মণ্ডলের কোষাধ্যক্ষ গৌরাঙ্গ দত্ত, কিষাণ মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য সৌরভ পোদ্দারকে বিজেপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কাউন্সিলারের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট সহ একাধিক অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দল চিঠি দিয়ে জানিয়েছে। রবিবার এই বিধানসভার ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সহ তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এ নিয়েও দলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)