• ‘রাজনৈতিক বস’ সবই জানতেন, পুলিশের কাছে দাবি জাহাঙ্গিরের, সামান্য দর্জি থেকে কালা সাম্রাজ্যের অধিপতি!
    বর্তমান | ১১ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘পুষ্পা’ ওরফে ফলতার স্বঘোষিত বাদশা জাহাঙ্গির খান পুলিশের জেরায় মানছেন নিজের কুর্কীতির কথা। তোলাবাজি ও জরিমানা করে বিপুল পরিমাণ টাকা রোজগারও করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।  তাঁর কীর্তিকলাপের বিষয়টি যে ‘রাজনৈতিক বস’এর অজানা ছিল না, তদন্তকারীদের কাছে এমনটাই দাবি করেছেন জাহাঙ্গির। মাথায় ওই বসের ‘হাত’ থাকাতে শুধু ফলতা নয়, গোটা ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের সর্বত্র ছড়ি ঘোরাচ্ছিলেন একসময়ে পেশায় দর্জি পুষ্পা। 

    নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কি থেকে ধরা পড়ার পর ফলতার পুষ্পা এখন পুলিশের হেফাজতে। তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ থেকে এলাকার ব্যবসায়ী সকলেই  নিত্যনতুন অভিযোগ জমা করছেন। যেখানে তোলাবাজি, জোর করে জমি দখল, জলাভূমি ভরাট, মাটি পাচার, বেআইনি অস্ত্র ব্যবসা সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। কীভাবে নিজের সাম্র্যাজ্য গ঩ড়ে তুলেছিলেন তৃণমূলের এই নেতা, সেটাই জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। জাহাঙ্গীর জেরায় দাবি করেছেন, প্রথমে কেউ তাঁকে বিশেষ চিনতেন না। রাজনৈতিক বস অন্য জেলার মতো ডায়মন্ডহারবারে একটি কোর টিম তৈরি করেছিলেন। তাতে তিনি জায়গা পান। তারপর থেকে তাঁকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বসের মাথায় হাত থাকায় বকলমে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদও চালাতে শুরু করেন। একইসঙ্গে ফলতা বিধানসভা এলাকার সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। ফলতা শিল্পতালুকে থাকা সমস্ত কারখানাকে মাসে কত টাকা তোলা দিতে হবে, তা ঠিক করে দেন। এখান থেকে তিনি কোটি টাকা রোজগার করতেন। এছাড়া দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে টাকা তুলতেন ব্যবসায়ীদের কাছে।  কেউ টাকা দিতে না চাইলে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখাতেন। ভয় দেখাতে গুলিও চালিয়েছে জাহাঙ্গিরের দলবল।  এফআইআর তো দূরের কথা, গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছে থানা। অভিযোগ, এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমি দখল করেছেন বন্দুকের নলের ভয় দেখিয়ে। এলাকা দিয়ে যাওয়া বালি ও গোরুর লরি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা রোজগার ছিল। এর বাইরে বেসরকারি বাস, লরি, গাড়ি সহ বিভিন্ন গণপরিবহণ থেকে মাসে ২০ লক্ষ টাকা রোজগার ছিল তাঁর।  তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি আয় ছিল জেলা পরিষদের বিভিন্ন কাজের কাটমানি থেকে।  ২০২৩ সালে তিনি জেলা পরিষদের পূর্ত  কর্মাধ্যক্ষ হওয়ার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ ঠিকাদাররাই কেবল কাজের বরাত পেতেন। এর বিনিময়ে বিপুল কাটমানি ঘরে ঢুকত জাহাঙ্গীরের।  ফলতার  ডনের দাবি, এই সমস্ত বিষয় তাঁর রাজনৈতিক বস জানতেন। সেই  কারণে কেউ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস দেখাননি।  এর বিনিময়ে বস কোনও সুবিধা নিয়েছেন কি না, সেটাই জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। টেন্ডার দুর্নীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফলতা থানায় এফআইআর হয়েছে জাহাঙ্গিরের নামে। তদন্তকারীরা বলছেন, তোলাবাজি করে আসা টাকা তিনি বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন জাহাঙ্গির। সেগুলির বিষয়ে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। - ফাইল চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)