• সম্প্রসারণ শুভেন্দু মন্ত্রিসভার, অবশেষে দপ্তর বণ্টন
    বর্তমান | ১১ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ১ জুন ৩৫ জন বিজেপি বিধায়ক মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন। ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী। তারপর নানা জল্পনা-কল্পনায় কেটে গিয়েছে ৯ দিন। মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন হচ্ছিল না। অবশেষে বুধবার সেই পর্ব সারা হল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজের নিজের দায়িত্ব বুঝে নিলেন। 

    রাজনৈতিক মহলের দাবি, রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের ক্যাবিনেটে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রভাব ও আধিপত্য স্পষ্ট। ১৯ জন পূর্ণমন্ত্রীর মধ্যে ১৪ জনই সংঘের স্বয়ংসেবক। অর্থাৎ, মন্ত্রিত্বের ক্ষেত্রে সংঘের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত ও পরীক্ষিতদেরই অগ্রাধিকার দিয়েছে বিজেপি। তিন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যেও অনেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংঘের বিচারধারার সঙ্গে পরিচিত। ফলে আগামী দিনে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সংঘ পরিবারের নীতি-আদর্শ বাড়তি গুরুত্ব পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

    বিজেপি সূত্রের দাবি, দপ্তর বণ্টন নিয়ে সংঘের সঙ্গে খানিক মতপার্থক্যও হচ্ছিল বিজেপির। সেই কারণেই গত এক সপ্তাহে বার চারেক দিল্লি ছুটতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। দলের এক প্রবীণ নেতার কথায়, নিটের প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে ‘ইন্ডিয়া’ জোটও। এই আবহে রাজ্যের শিক্ষাদপ্তরের রাশ ‘নিজেদের লোক’-এর হাতে রাখতে সক্রিয় হয়ে ওঠে বঙ্গ আরএসএস। সেই সূত্রেই সংঘের ছাত্র সংগঠনের পুরানো নেতা দীপক বর্মনের হাতে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে স্বয়ংসেবক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাঁধে দেওয়া হয়েছে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ভার। অর্থমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে দীর্ঘ চর্চা চলছিল। সর্বভারতীয় সংঘ নেতাদের আস্থাভাজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ-সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্তের হাতে ছাড়া হয়েছে সেই গুরুদায়িত্ব। আরএসএসের তৃতীয় বর্ষের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘অনুগত ছাত্র’ কল্যাণ চক্রবর্তী ও দুধকুমার মণ্ডলকে দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃষিদপ্তর। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে সংঘের আরেক ‘ঘরের ছেলে’ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে। কুলটির সংঘঘনিষ্ঠ বিধায়ক অজয় পোদ্দারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরির মতো বড়ো দপ্তর। এই সমীকরণে আপাতভাবে ‘বহিরাগত’ তাপস রায়কে শিল্প, অর্জুন সিংকে পরিবহণ ও শ্রমদপ্তর এবং শংকর ঘোষকে পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী করা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)