নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুপুর ১ টা। নিউটাউনের নারকেল বাগান থেকে ভাগীরথী নেওটিয়া যেতে একজনের জন্য টোটো ভাড়া ৬০ টাকা। শুনে চমকে উঠলেন বৃদ্ধ। রাত দশটা। নারকেল বাগান থেকে আকাঙ্খা মোড় যেতে টোটো চালক ২৫০ টাকা নিলেন। যাত্রী দম্পতির বক্তব্য, ‘নিউটাউনে টোটোর মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া প্রায় অত্যাচারের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।’
নিউটাউন শহরের যা আকার তার তুলনায় যাত্রীবাহী গাড়ি সংখ্যা অনেক কম। এছাড়াও অসংখ্য মানুষ কর্মসূত্রে এখানে যাওয়াআসা করেন। তাঁরা বাড়তি ভাড়া নিয়ে রোজই অনুযোগ করেন। উপনগরীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, কম সংখ্যক যানবাহনের কারণেই টোটোর বাড়বাড়ন্ত। এবং সে কারণেই চালকরা মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া হাঁকেন। এবং সবাই তা বাধ্য হয়ে দেন। নিউটাউন নতুন উপনগরী। সদ্য তৈরি হওয়ার কারণে এখনও সরকারি নিয়মকানুন কে কতটা মেনে চলছেন তার নজরদারির অভাব আছে। এরই ফাঁক গলে মানুষের পকেট ফাঁক করে চলেছে টোটো। খাতায়কলমে টোটোর ভাড়া কিছু জায়গায় নির্দিষ্ট আছে। তবে নজরদারির অভাবে তা অধিকাংশ চালক মানেন না। নিয়মের ফাঁক গলে যথেচ্ছ ভাড়া নেন। নিউটাউনে টোটোয় এক কিমি যেতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ। এক স্টপেজ দূরত্ব যেতেও এই ভাড়াই হাঁকেন চালকরা। কেউ রিজার্ভ করে যেতে চাইলে ভাড়া আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। অন্যায্য হলেও সেই বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য হন অধিকাংশ যাত্রী। অভিযোগ, রাত বাড়লে ভাড়া লাফিয়ে বাড়ে। অফিস টাইমে তা আরও মাত্রাছাড়া। এর পাশাপাশি অ্যাপ নির্ভর টোটোও চলে উপনগরীতে। সেগুলির ভাড়া সেই সংস্থা নিয়ন্ত্রিত। তা মোটেও কম নয়। তবে তা চালকের মর্জি মতো বাড়ে বা কমে না, এটুকুই যা সুবিধা।
স্বর্ণাভ গোস্বামী নামে এক ব্যক্তি জানান, নারকেলবাগান থেকে দেড়-দু’কিমি দূরে যেতে ৪০ টাকা ভাড়া দাবি করেন চালক। তিনি বাধ্য হয়ে রাজি হন। স্বর্ণাভবাবু বা ওই দম্পতি একা নন। নিউটাউনে অস্বাভাবিক ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ তোলেন অধিকাংশ মানুষ। তবে অভিযোগের পর অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন কার্যত বিষয়টি দেখেও দেখে না। খুব একটা উচ্চবাচ্য করে না। সঠিক ভাড়া নিতে টোটোচালকদের পুলিশ কিছু নির্দেশ দিয়েছে বলেও শোনা যায়নি। তৃণমূল সরকারে থাকার সময় টোটো চালকদের ভালোমন্দ দেখভাল করত নিউটাউনের আইএনটিটইিউসি সংগঠন। কিন্তু ভোটে পালাবদলের পর ইউনিয়নের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সংগঠনের যে নেতারা এলাকাভিত্তিক টোটো সংগঠন সামলাতেন, তাঁদের ফোনে পাওয়া যায়নি। যদিও নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক দিনকয়েক আগে নিউটাউনের যানবাহনের সমস্যার কথা নিজেই তুলেছিলেন। ফোনে বলেছিলেন, ‘যানবাহন সংক্রান্ত বহু অভিযোগ আছে। বিষয়গুলি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দেখা হবে। সমস্যার সমাধান করা হবে।’ নিউটাউন ফোরামের চেয়ারম্যান সমরেশ দাস বলেন, ‘টোটোর কোনো রেট চার্ট নেই। যা খুশি ভাড়া নেয়। প্রত্যেকে এর শিকার। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দরকার।’ নিউটাউন রেসিডেন্স ওয়েলফেয়ার ফোরামের সম্পাদক সমীর গুপ্ত বলেন,‘আমরা বহু আগে এনকেডিএ’র চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে টোটো নিয়ে সুনির্দিষ্ট নিয়ম লাগুর দাবি তুলেছিলাম। তারপর এনকেডিএ আমাদের চিঠি দিয়ে জানায়, বিষয়টি জেলাশাসকের কাছে বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। সমস্যা সমাধানে আরটিও’কে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তবে সমস্যার সমাধান হয়নি। এখনও একই পরিস্থিতি।