• ছাত্রকে বেধড়ক মার সহপাঠীদের, তুমুল বিক্ষোভ বারুইপুরের স্কুলে
    বর্তমান | ১১ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বারুইপুর: দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে শৌচালয়ে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল অন্য কয়েকজন ছাত্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। অভিযুক্ত ছাত্রদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারির দাবি জানিয়ে বুধবার বারুইপুর মদারাটে ওই স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি সহ হিন্দুত্ববাদী একাধিক সংগঠন। রাস্তা অবরোধও করে তাঁরা। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় বিক্ষোভ চলে স্কুলের সামনে। স্কুলের মধ্যে আটকে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ ছাত্রছাত্রীরা।

    বারুইপুর থানার পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। বিক্ষোভকারী সরাতে পুলিশ লাঠি চার্জ করে। লাঠিতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় ছাত্রছাত্রীদের স্কুল থেকে বার করে আনা হয়। এদিন, স্কুলে আক্রান্ত ছাত্র সহ তাঁর অভিভাবক, অভিযুক্ত সহ অভিভাবক ও পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে বৈঠকে বসে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে অভিযুক্তর পরিবার ক্ষমা প্রার্থনা করে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈকত পুরকাইত সহ অন্যরা অভিযুক্তদের সাসপেন্ড করার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, আইন আইনের পথে চলবে। পুলিশ বিষয়টি দেখছে। এদিকে, আক্রান্ত ছাত্র দেবজিৎ হালদার শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাঁর পরিবারের দাবি, গত ৪ জুন স্কুলের ক্লাসরুমে ও শৌচালয়ে মারধরের ফলে তার শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত লেগেছে। বিশেষ করে কানে শুনতে পাচ্ছে না সে। ইতিমধ্যেই তিনবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আতঙ্কে স্কুলে যাওয়াই বন্ধ করেছে ওই ছাত্র। বারুইপুর থানায় এনিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।প্রশ্ন উঠেছে, স্কুলের মধ্যে কীভাবে এক ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করা হল? যদিও এই ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছু বলতে চায়নি। এদিকে আক্রান্ত ছাত্র বলে, একই চেহারার অন্য এক ছাত্র জয় শ্রীরাম বলেছিল। কিন্তু কয়েকজন আমাকে সন্দেহ করে মারধর করে। পরে তিনতলায় শৌচালয়ে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একদল মারধর করছিল, আর এক দল তার ভিডিও তুলছিল। আহত ছাত্রের অভিযোগ, স্কুলের এক শিক্ষককে জানানো হলেও তিনি কোনো সাহায্য করেননি। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)