এই সময়, হাওড়া: খাটালের গোবর ও বর্জ্য জমে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নিকাশি নালা। তার জন্য সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাটে জল জমে যাচ্ছে। তাই হাওড়া শহর থেকে খাটাল তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাওড়া পুরসভা। পুরসভা সূত্রের খবর, হাওড়া পুর এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা খাটালগুলিকে চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রায় জানিয়েছেন, সম্প্রতি হাওড়া শহরের নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে যে বৈঠক হয়েছিল, সেখানেই ঠিক হয়েছে, শহরে আর কোনও খাটাল আর রাখা হবে না। তার জন্য পুরসভার পক্ষ থেকে একটি সমীক্ষা চালানো হবে। কোথায় কতগুলি খাটাল রয়েছে, সেটা চিহ্নিত করার পরে সংশ্লিষ্ট মালিকদের নোটিস দেওয়া হবে। তাঁরা যদি নিজেরা সরিয়ে না নেন, তা হলে প্রশাসন সমস্ত খাটাল উচ্ছেদ করবে।
পুরসভার আধিকারিকদের দাবি, হাওড়া শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কয়েকশো খাটাল রয়েছে। সেখানে অনেক গবাদি পশু থাকায় গোরু ও মহিষের গোবর ও অন্যান্য বর্জ্য নিকাশি নালায় গিয়ে পড়ে। ফলে নর্দমা দ্রুত ভরাট হয়ে যায়। তাতে জলের প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়।বর্ষার সময় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ও আবাসিক এলাকায় জল জমে যায়। তার ফলে দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।
তবে দেরিতে হলেও পুরসভা খাটাল উচ্ছেদে তৎপর হওয়ায় খুশি সাধারণ বাসিন্দারা। উত্তর হাওড়ার বাসিন্দা অলোক ঘোষ বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় জল জমে যায়। খাটালের গোবর ও নোংরা আবর্জনা নর্দমায় জমে থাকে। পুরসভা মাঝে মধ্যেই নর্দমা পরিষ্কার করলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আগের জায়গায় ফিরে যায়।’
খাটাল মালিকদের কেউ কেউ অবশ্য জানাচ্ছেন, তাঁরা বহু বছর ধরে এই ব্যবসা করে আসছেন। তাঁদের দাবি, খাটালের গোবর থেকে জ্বালানি তৈরি হয়। তাই শুধু খাটালের গোবর থেকে নর্দমা বুজে যাচ্ছে, এই তথ্য সঠিক নয়।