আলিপুরদুয়ারের কামাখ্যাগুড়িতে শতাব্দীপ্রাচীন আদি কামাখ্যাধামের বার্ষিক পুজোকে ঘিরে উৎসবের মেজাজ। প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো এই ঐতিহাসিক পুজোর অন্যতম প্রধান এবং আকর্ষণ বাঁশ জাগানো। প্রাচীন প্রথা দীর্ঘদিন ধরে পালিত হয়ে আসছে এই প্রথার সঙ্গে স্থানীয় মানুষজনের বিশ্বাস গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। জানা যায়, দেবী কামাখ্যা-সহ এই মন্দিরে অধিষ্ঠিত প্রত্যেক দেবদেবীর নামেই এই বিশেষ আচারটি পালন করা হয়।
আদি কামাখ্যাধামের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক দেবদেবীর রূপ, তাঁদের চরিত্র এবং মাহাত্ম্য অনুসারে আলাদা আলাদাভাবে এই বাঁশগুলিকে সাজানো হয়। যেখানে বাঁশের গোড়ার দিক থেকে প্রায় দু-তিন ফুট অংশ ফাঁকা রেখে, বাকি সম্পূর্ণ অংশটিকে উজ্জ্বল লাল ও সাদা রঙের শালু কাপড় দিয়ে জড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রতিটি বাঁশের মাথায় বসানো হয় একটি করে ত্রিশূল অথবা চামর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, এই ‘বাঁশ জাগানো’ আচারের মাধ্যমে আসলে মহাশক্তির আহ্বান করা হয়। যার প্রভাবে সমগ্র এলাকা থেকে অশুভ শক্তির প্রভাব চিরতরে দূর হয়ে যায়। প্রতি বছর নিয়ম মেনে অম্বুবাচী তিথি শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত পালন করা হয়। কামাখ্যাগুড়ি ও সংলগ্ন গ্রামের তরুণরা ওই সুসজ্জিত বাঁশগুলি কাঁধে নিয়ে উৎসবের মেজাজে মেতে ওঠেন।
মূল পুজোর দিন নির্দিষ্ট বৈদিক ও লৌকিক আচার মেনে ঘটপুজো করা হয়। উৎসবের শেষ পর্বে কামাখ্যা দেবীর রূপক ওই বাঁশ ও ঘটগুলিকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে ভেলায় করে স্থানীয় নদী বা জলাশয়ের জলে বিসর্জন দেওয়া হয়। কামাখ্যাগুড়ির এই আদি কামাখ্যাধামের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোচবিহারের রাজপরিবারের স্মৃতি। মন্দির পরিচালন কমিটির বর্তমান সভাপতি জানান, শুরুর দিকে মূলত আদিবাসী রাভা সম্প্রদায়ের মানুষজনই এই পুজোর মূল আয়োজন করতেন। তবে সময়ের সঙ্গেসঙ্গে এবং এলাকার সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ এই মেলা ও উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।