এই সময়, রূপনারায়ণপুর: দীর্ঘদিন ধরে চলছিল হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযানে নামল বিদ্যুৎ দপ্তরের রূপনারায়ণপুর বিভাগ। মঙ্গলবারের এই অভিযানে শুধুমাত্র একটি বাড়ির গ্রাহকের বিরুদ্ধেই তিন লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। বাড়িটিতে একান্নবর্তী পরিবারে থাকেন সালানপুর পঞ্চায়েতের প্রধান। এ দিন অভিযানে গিয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরা দেখেন, ওই বাড়িটিতে তিনটি এসি মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু তার জন্য কোনও বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। মূল লাইন থেকে সরাসরি হুকিং করে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছিল।
বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে সালানপুর পঞ্চায়েতের প্রধান দীপিকা বাউড়ির আত্মীয় সোমনাথ বাউড়ির স্ত্রী ঝর্না বাউড়ির নামে। জরিমানার পাশাপাশি ঝর্নার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে। পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী ফুচু বাউড়ি অবশ্য দাবি করেছেন, বাড়িতে এসি লাগানোর পরে বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোড নেওয়ার জন্য যে অনুমতি নিতে হয়, তা তাঁরা ভুলবশত নেননি। তিনি আরও জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিদ্যুৎ দপ্তর যখন এই অভিযান চালায়, তখন তাঁরা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। তিনি হাসপাতালে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ব্লক কার্যালয়ে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন।
ওই অভিযানে রূপনারায়ণপুরের আমডাঙা, সালানপুর ও কালীতলায় একযোগে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। সালানপুর পঞ্চায়েতের প্রধানের বাড়ি ছাড়াও হুকিংয়ের অভিযোগে আমডাঙার মনীশ মিশ্র নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৭২ হাজার টাকা এবং কালীতলার শিবনাথ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় এক লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করেছে বিদ্যুৎ দপ্তর। এফআইআর-ও দায়ের করা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। অভিযানের পাশাপাশি বিদ্যুৎ দপ্তরের রূপনারায়ণপুর বিভাগের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে হুকিং নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হুকিং করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে জরিমানার সঙ্গে এফআইআর-ও দায়ের করা হবে। সম্মানহানি, বিপুল জরিমানা এবং আইনি ঝামেলা এড়াতে প্রত্যেকে যেন নিয়ম মেনে ও অনুমতি নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করেন।