• রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ আরও এক তৃণমূল সাংসদের
    আজকাল | ১১ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবারেও তৃণমূল শিবিরে জোর ধাক্কা। এবার রাজ্যসভা ছাড়লেন তৃণমূল সাংসদ প্রকাশচিক বারাইক। সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা দেবের পর রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রকাশচিক। ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে ইস্তফা পত্র পাঠিয়েছেন তিনি। এক সপ্তাহের মধ্যেই এই নিয়ে তৃতীয় তৃণমূল সাংসদ ইস্তফা দিলেন। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে রাজ্যসভায় আরও কয়েকজন তৃণমূল সাংসদ ইস্তফা দিতে পারেন। 

    যদিও ইস্তফা পত্রে কোনও কারণ উল্লেখ করেননি প্রকাশচিক। কিন্তু এদিন রাজ্যসভায় ইস্তফা দিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রকাশচিক জানিয়েছেন, "বাংলার মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তার ওপর আস্থা রেখেই আমি ইস্তফা দিয়েছি। আমি দল থেকেও পদত্যাগ করেছি। নেত্রীর সঙ্গে আজ কোনও কথা হয়নি। এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে উন্নয়নের কাজে যোগদান করব।" রাজনৈতিক মহলের দাবি, প্রকাশচিকের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনায় আজই সিলমোহর পড়ল। 

    চলতি সপ্তাহেই সোমবার রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়। ইস্তফা পত্রে সুখেন্দুশেখর লিখছেন, 'সাম্প্রতিক অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচকমন্ডলী ১৫ বছর শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তৃণমূল কংগ্রেস দলের বেলাগাম দুর্নীতি, চরম নারী নির্যাতন ও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলাসহ সব ক্ষেত্রে শোচনীয় অপদার্থতাজনিত চরম নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সার্বিক অনাস্থা জ্ঞাপন করে ভারতীয় জনতা দলকে বাংলার ইতিহাসে প্রথমবার বিপুল সংখ্যক আসনে জয়ী করেছেন। ইতিমধ্যে নবনির্বাচিত জনগণের সরকার তাদের দলের ঘোষিত নির্বাচনী সঙ্কল্প অনুসারে বাংলার সার্বিক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের স্বার্থে একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন। আমি জনসাধারণের এই ঐতিহাসিক রায় নতমস্তকে গ্রহণ করে তৃণমূল কংগ্রেস দলের প্রাথমিক সদস্যপদ এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করলাম।' 

    এরপর গতকাল বুধবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুস্মিতা দেব। অসমের শিলচরের প্রাক্তন কংগ্রেস লোকসভা সাংসদ সুস্মিতা দেব ২০১৯ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ২০২১ সালে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সর্বভারতীয় মুখপাত্র হিসেবে দলে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি এবং পরবর্তীকালে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন। উত্তর-পূর্বে দলের বিস্তার ও জাতীয় স্তরে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফলে, দিন কয়েকের ব্যবধানে সুখেন্দুশেখর রায়ের পর সুস্মিতার এই আকস্মিক পদত্যাগ তৃণমূলের সংসদীয় দলের ওপর নেত্রীর রাশ আলগা হওয়ার জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিল।

    একের পর এক বিশ্বস্ত সহযোগীর এভাবে দল ছাড়ার ঘটনা দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জির শিবিরের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর আগে দলের ৬১ জন বিধায়ক বিক্ষুব্ধ নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জির পাশে দাঁড়ানোয় এমনিতেই কোণঠাসা ছিল শীর্ষ নেতৃত্ব, এবার সংসদের অন্দরেও সেই ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠল।
  • Link to this news (আজকাল)