• এবার তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' শিবিরে ফাটল?
    আজকাল | ১১ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' শিবিরে কি তবে ফাটল ধরল? লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার কাছে ১৯ জন তৃণমূল সাংসদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে বলে খবর। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, এই গোষ্ঠীটি তৃণমূল দল থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চায় এবং সংসদে শাসক জোট এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী।

    সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের জমা দেওয়া দলত্যাগী সাংসদদের তালিকায় নাম রয়েছে জয়নগরের তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলের। কিন্তু, হঠাৎই তিনি 'বিদ্রোহী' গোষ্ঠীর অংশ হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। 'বিদ্রোহী' শিবিরে তাঁর থাকার খবরকে "সম্পূর্ণ মিথ্যা" বলে দাবি করেছেন প্রতিমা মণ্ডল। তিনি কলকাতায় আছেন এবং দিল্লিতে কারও সঙ্গে দেখা করেননি।

    প্রতিমা মণ্ডল বলেছেন, "এই খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এখানেই কলকাতায় আছি। ৪ জুন দিল্লিতে আমার 'এস্টিমেটস কমিটি'-র একটি বৈঠক ছিল এবং সেদিনই আমি কলকাতায় ফিরে আসি। তারপর থেকে আমি আর দিল্লিতে যাইনি।"

    জয়নগরের সাংসদ "মিথ্যা খবর ছড়ানো"-র পরিবর্তে সাংসদদের স্বাক্ষরিত সেই চিঠিটি প্রকাশ্যে আনার চ্যালেঞ্জও জানান "বিদ্রোহীদের"। তিনি বলেন, "যারা এই মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছেন, তাদের আমি জিজ্ঞাসা করছি - আপনারা কেন সবার স্বাক্ষরিত চিঠিটি প্রকাশ করছেন না? কেন সেই নথিটি দেখাচ্ছেন না যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে, তাতে আমার নাম আছে কি না?"

    সাংসদ আরও জানান যে, "বিদ্রোহীদের" পরিকল্পনার কোনও বিস্তারিত তথ্য তাঁকে দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের (বিদ্রোহী) কয়েকজনের সঙ্গে যা আলোচনা হলেও, তাঁদের কর্মপরিকল্পনা "উপযুক্ত" বলে তিনি মনে করেননি।

    তবে প্রতিমা মণ্ডল স্বীকার করেছেন যে তৃণমূলে কিছু সমস্যা ছিল যার ফলে দল হেরেছে। তিনি বলেন, "নিশ্চিতভাবেই কিছু ভুলত্রুটি ছিল। সেই কারণেই মানুষ তৃণমূলকে সমর্থন জানায়নি এবং আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি।" তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে বিদ্রোহী শিবির তাঁকে তাদের দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন কারণ "তাদের পরিকল্পনা তাঁর পছন্দ হয়নি"।

    সাংসদ আরও জানান, বিধায়কদের বিদ্রোহের পর দলের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি নিজেই সাংসদদের নিয়ে একটি বৈঠক করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ওই গোষ্ঠী তাঁকে দিল্লিতে যাওয়ার কথা বলেছিল।

    প্রতিমা মণ্ডল বলেন, "আমি নিজেই অনেক সাংসদকে ফোন করে কলকাতায় বৈঠক করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তাঁরা আমাকে দিল্লিতে যেতে বলেন। আমি তাতে রাজি হইনি।" চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তৃণমূলের সাংগঠনিক সংকট প্রকাশ্যে আসে, যখন দলের অভ্যন্তরে সৃষ্ট বিদ্রোহ—যা প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিভাজন ঘটিয়েছিল—তা সংসদ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

    সংসদীয় পর্যায়ে এই ভাঙন দেখা দেয় ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের (বিদ্রোহী শিবিরের দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যা এখন বেড়ে ৬৪ হয়েছে) দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করার ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই। তাঁরা বিধানসভার বিরোদী দলনেতা পদে দলের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী শোভনদেব চ্য়াটার্জির পরিবর্তে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

    এই জোড়া বিদ্রোহ মমতা ব্যানার্জির দলকে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সম্ভবত সবচেয়ে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এর ফলে দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এখন বিধানসভা ও সংসদে শক্তি প্রদর্শন, সংখ্যার লড়াই, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক বৈধতা রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

    বিধানসভা থেকে সংসদ পর্যন্ত এই বিভাজন ক্রমশ আরও চওড়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্যসভার তিন সদস্য (সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক) রাজ্যসভা ও তৃণমূল থেকেই পদত্যাগ করেছেন।
  • Link to this news (আজকাল)