আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা, তারপর মমতা ব্য়ানার্জির প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার। বৃহস্পতিবার প্রবীণ অভিনেতা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা 'বিদ্রোহী' গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার জল্পনা বা খবরকে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' গোষ্ঠীর লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে তাঁর নাম থাকার খবর চাউর হতেই, ভারতের দীর্ঘতম সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শত্রুঘ্ন সিনহার 'এক্স' পোস্ট জল্পনা উস্কে দিয়েছিল।
তৃণমূল সাংসদ 'এক্স'-এ পোস্টে লেখেন, "খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব নিয়ে, আমাদের বন্ধু এবং সমাজ ও জাতির পথপ্রদর্শক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে তাঁর কার্যকালের ১২ বছর পূর্ণ করার জন্য (যা সম্ভবত এযাবৎকালের দীর্ঘতম মেয়াদ) শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনার দীর্ঘ, সুস্থ ও সমৃদ্ধ জীবন কামনা করি। জয় হিন্দ!" লক্ষণীয় বিষয় হল, এই পোস্টে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকেও ট্যাগ করেছিলেন।
শত্রুঘ্ন সিনহার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ স্পষ্ট করে দেন যে তিনি কখনওই মমতা ব্যানার্জিকে ছেড়ে যাবেন না।
বিভিন্ন খবর বা জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানান যে, সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। আসানসোলের সাংসদ স্পষ্ট বলেন, "আমাকে নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন আমি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অংশ। এসবের কোনওটিই সত্য নয়।" আসানসোলের সাংসদ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি কখনওই মমতা ব্যানার্জিকে ছাড়বেন না। বলেন, "দুঃসময়ে মমতা ব্যানার্জি আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কঠিন সময়ে আমিও তাঁর পাশে দাঁড়াব।"
তৃণমূল নেত্রীর অনুরোধেই যে শত্রুঘ্ন সিনহা আসানসোল থেকে লোকসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন, তা উল্লেখ করে সিনহা বলেন, তিনি "কখনওই দিদিকে ছাড়বেন না।"
শত্রুঘ্ন সিনহা বিজেপির হাত ধরে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন। বিজেপির বিশিষ্ট নেতা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর, "ক্রমবর্ধমান আদর্শগত মতপার্থক্যের" কারণে তিনি দল ছাড়েন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি কংগ্রেসের টিকিটে পাটনা সাহিব কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন।
২০২২ সালে শত্রুঘ্ন সিনহা মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং আসানসোল লোকসভা উপনির্বাচনে জয়ী হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে আসানসোল আসনটি ধরে রাখেন।