তৃণমূলের ভাঙনের মাঝে বড় খবর। যেখানে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন সাংসদ কীর্তি আজাদ, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, মালা রায়েরা। তৃণমূলের ভোটের হারের পর থেকে 'খামোশ' সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। জানা যায়, তিনিও বিদ্রোগী শিবিরেই নাম লিখিয়েছেন। পরে বুধবার জানা যায়, বিদ্রোহী দলে এখনও স্বাক্ষর করেননি আসানসোলের সাংসদ। তবে স্বাক্ষর করার জন্য এক পায়ে খাঁড়া তিনি।
সূত্রের খবর, স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে এখনও স্বাক্ষর করেননি শত্রুঘ্ন। তবে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত। রেখেছেন দু'টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
শত্রুঘ্ন বলেন, "২০১৯ সালে পাটনা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর যখন আমি এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন খুব কম মানুষই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। যে অল্প কয়েকজন আমাকে সমর্থন ও উৎসাহ দিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন। তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁরই নির্দেশে আমি আসানসোল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। ঈশ্বরের কৃপায়, এবং মমতাজি ও আসানসোলের জনগণের সমর্থনে আমি জয় লাভ করি। গত কয়েকদিন ধরে আমাকে নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা চলছে। কেউ কেউ সত্যি কথা বলছেন, আবার কেউ কেউ গুজব ছড়াচ্ছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে আমি তথাকথিত বিদ্রোহী দলে যোগ দিয়েছি। হ্যাঁ, স্বভাবগতভাবেই আমি বরাবরই স্পষ্টভাষী। আমি প্রায়ই বলি, সত্যি কথা বলা যদি বিদ্রোহ হয়, তাহলে আমিও একজন বিদ্রোহী। আমি সবসময় অকপটে কথা বলেছি এবং যা সত্যি তাই বলেছি। কিন্তু আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, মমতাজি আমার কঠিন সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, এবং আজ তাঁর এই কঠিন সময়ে আমি তাঁকে ত্যাগ করতে পারি না। ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক—‘জোড়া ফুল’—দিয়ে একবার নয়, দুবার নির্বাচিত হয়েছিলাম। তাই, মমতাজি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য ও দায়িত্ব... আমার নীতি খুব স্পষ্ট: মমতাজি যখন আমার কঠিন সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন এই মুহূর্তেও তাঁর পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য।"
জল্পনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করেন লোকসভা সাংসদ। এক্সে তিনি পোস্ট করেন, "প্রকৃত ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে, আমাদের বন্ধু এবং সমাজ ও জাতির পথপ্রদর্শক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাঁর ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সম্ভবত এযাবৎকালের দীর্ঘতম কার্যকাল। তাঁর দীর্ঘ, সুস্থ ও সমৃদ্ধ জীবন কামনা করি। জয় হিন্দ!"
৬৪ বিধায়কের পর ১৯ সাংসদ বিদ্রোহীদের তালিকায় আছেন বলে খবর আসে। এই তালিকায় মমতা ঘনিষ্ঠ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, পার্থ ভৌমিক, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবের নামও ছিল। শত্রুঘ্ন সিনহাসহ ইউসুফ পাঠানও ছিলেন। মোট ১৯ জন বিদ্রোহী সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা যাচ্ছিল। পরে জানা যায়, শত্রুঘ্ন এবং দেব এখনও বিদ্রোহীদের তালিকায় স্বাক্ষর করেননি।