• আইনি পথে ভাঙছে তৃণমূল? নিজেদের 'আসল তৃণমূল' প্রমাণ করার প্রস্তুতি বিদ্রোহীদের
    আজ তক | ১১ জুন ২০২৬
  • এবার আইনি পথে ভাঙতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, দলের একটি অংশ আইনের ভিত্তিতে আলাদা রাজনৈতিক সত্তার দাবি তুলতে চলেছে এবং নিজেদেরকেই তারা 'আসল তৃণমূল' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

    এই শিবিরের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় সংবিধান মেনে পরিচালিত হচ্ছিল না। তাঁদের অভিযোগ, দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংবিধান মেনে নেওয়া হয়নি। যার ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে লোকসভার স্পিকারের কাছে লেখা চিঠিতে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বিস্তারিতভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন বলে জানা গিয়েছে। সেই চিঠিতে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী এবং সংবিধান বিরোধী সিদ্ধান্তগুলির বিষয়েও উল্লেখ করেছেন বলে সূত্রের দাবি। 

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলে সম্ভাব্য এই ভাঙনের পরিস্থিতি অনেকটাই শিবসেনা এবং লোক জনশক্তি পার্টির (LJP) সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, এই ক্ষেত্রে নতুন গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি পেতে অন্য কোনও দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন না-ও হতে পারে। বরং পৃথক গোষ্ঠী হিসেবেই স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েন আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

    প্রতীক হাতছাড়া হবে মমতার? 
    বিধানসভার মতোই লোকসভাতেও ভেঙে টুকরো হতে চলেছে তৃণমূল। পরিষদীয় দল ইতিমধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গিয়েছে। সংসদীয় দলেও বিদ্রোহীদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে কি দলের প্রতীকও চলে যাবে? ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের প্রতীকের দাবি জানাবেন কি না, তা নিয়ে bangla.aajtak.in-কে বলেছিলেন, 'আজকে হয়তো দাবি জানাচ্ছি না। তবে কাল কী হবে বলতে পারব না। যা করব পরিষদীয় দলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে করব।' এবার কি তবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন তিনি? 

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনীত তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য bangla.aajtak.in-কে বলেছিলেন, 'উনি কী করবেন, সেটা ওঁর ব্যাপার। আমরা এ ব্যাপারে কী বলতে পারব। হাইপোথেটিক্যাল ভাবনার কী উত্তর দেব?'

    নিয়মটি ঠিক কী? 
    তাঁরাই যে 'আসল' তৃণমূল, তা প্রমাণ করতে হবে বিদ্রোহী বিধায়ক এবং সাংসদদের। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেলে লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে হবে প্রতীকের জন্য। কমিশনের সচিবের কাছে লিখিত আকারে সেই আবেদন জমা দিতে হবে আবেদন পত্র। ওই আবেদন পত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের স্বাক্ষর থাকতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু যে বিধানসভা এবং লোকসভার সাংসদ-বিধায়কদের সিংহভাগের সমর্থন দরকার তাই নয়, একই সঙ্গে দলের সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীদেরও সিংহভাগের সমর্থন দরকার পড়ে। 

    প্রতীকের হাতবদল কীভাবে হতে পারে?
    যে পক্ষের হাতে বেশি সাংসদ-বিধায়ক এবং পদাধিকারীদের সমর্থন থাকবে তাঁরা দলের আসল নাম-প্রতীক এবং তহবিলের চাবি পাবে। অন্য পক্ষকে নতুন দল হিসাবে রেজিস্টার করার সুযোগ দেবে নির্বাচন কমিশন। 

     
  • Link to this news (আজ তক)