পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নকে নতুন করে গতি দেওয়ার লক্ষ্যেই এগোতে চায় রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই শিল্পোন্নয়নকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সুর শোনা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যেও। এবার শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই বার্তাকেই আরও জোরালো করলেন রাজ্যের নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়।
দায়িত্ব নেওয়ার পরই তাপস রায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে বৃহৎ শিল্প ফেরানোই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তাঁর বক্তব্য, বাংলার শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে বড় শিল্প সংস্থাগুলির আস্থা পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত। কার্যত টাটাকে বাংলাতে ফেরাতে তিনি যে বদ্ধপরিকর তা স্পষ্ট করেছেন।
প্রসঙ্গত, সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের ন্যানো গাড়ি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একসময় রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছিল। জমি আন্দোলনের জেরে প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরে গিয়ে গুজরাতে চলে যায়। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান এবং পরবর্তীতে বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পথ প্রশস্ত হয়েছিল। তবে শিল্প মহলের একাংশের মতে, ওই ঘটনার ফলে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের পরিবেশও দীর্ঘদিনের জন্য প্রভাবিত হয়েছিল।
নতুন শিল্পমন্ত্রী দাবি করেছেন, রাজ্যে বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। শিল্প, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সামনে রেখেই আগামী দিনে পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে তাপস রায় পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনাও করেন। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তার প্রভাব রাজ্যের উন্নয়নের উপর পড়েছে। আরও বলেন গত সরকারের আমলে প্রতিটা দফতরে দুর্নীতি হয়েছিল। আর সেই দুর্নীতির টাকার একটি ভাগ যেত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তিনি দাবি করেন, নতুন সরকার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রশাসন পরিচালনা করবে।
রাজ্যে শিল্পায়নের নতুন অধ্যায় শুরু করার লক্ষ্যে সরকারের এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, সেদিকেই এখন নজর শিল্পমহল এবং সাধারণ মানুষের।