• ‘হয় অভিষেক নইলে আমি’, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপশন বাছতে দিলেন কল্যাণ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১১ জুন ২০২৬
  • বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। একের পর এক নেতা ও জনপ্রতিনিধি প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পরিষদীয় দলের একাংশ ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও শোনা গেল তীব্র ক্ষোভের সুর।

    বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে বিধায়কদের সই জাল সংক্রান্ত মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ওই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি সুরক্ষার আবেদন করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল করে আসা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় হঠাৎই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সাংবাদিকদের সামনে এসে তিনি অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

    কল্যাণের অভিযোগ, মামলাটি নিয়ে আদালতে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এমনকি আগের দিন আদালতে বিষয়টি উল্লেখও করেছিলেন। কিন্তু পরে তাঁর ছেলে, যিনি আইনজীবী হিসেবেও যুক্ত ছিলেন, গভীর রাতে ফোন পেয়ে জানতে পারেন যে অন্য এক আইনজীবী মামলাটিতে সওয়াল করবেন। এই ঘটনাকেই তিনি নিজের এবং তাঁর পরিবারের প্রতি অসম্মান বলে মনে করেছেন।

    ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বলেন, ‘আমি অভিষেকের মামলা ছেড়ে দিয়েছি। ৪৫ বছর ধরে এই পেশায় রয়েছি। আমাকে ডাস্টবিনের মতো ব্যবহার করা হবে, এটা মেনে নিতে পারি না। এই ধরনের ঔদ্ধত্যের সঙ্গে আমি আর থাকতে পারব না।’

    শুধু তাই নয়, তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, ‘দিদিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে  দলে কে থাকবে, আমি না অভিষেক। যদি অভিষেককে নিয়েই চলতে হয়, তাহলে দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমাকে সরে যেতে হবে।’

    কল্যাণ আরও দাবি করেন, তিনি বরাবরই দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনুগত থেকেছেন এবং রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সময় তাঁর সঙ্গে লড়াই করেছেন। তাঁর কথায়, ‘অভিষেকের সঙ্গে দিদির রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু আমাদের সঙ্গে সম্পর্কটা সংগ্রামের। আমরা ৪০ বছর ধরে দিদির পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছি। এখন সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে।’

    অভিষেকের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কল্যাণ। তাঁর অভিযোগ, ‘ওর জন্যই দলটা শেষ হয়েছে। এত কিছুর পরেও ওর ঔদ্ধত্য কমেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২২ সালেও আমি বলেছিলাম, ওকে দিয়ে হবে না। তখন আমি একাই বলেছিলাম। ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলাম। কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি।’

    তৃণমূলের বর্তমান সংকটের আবহে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এতদিন দলের ভেতরের বিরোধিতার বিরুদ্ধে সরব থাকলেও এবার তিনিই প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সমালোচনা করলেন। ফলে তৃণমূলের অন্দরে মতবিরোধ আরও প্রকট হয়ে উঠল বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)