• রাজ্যসভায় ফের ভাঙল তৃণমূল, সুখেন্দু-সুস্মিতার পর ইস্তফা আরও এক সাংসদের
    প্রতিদিন | ১১ জুন ২০২৬
  • এ যেন প্রত্যাশিতই ছিল। রাজ্যসভায় আবারও ভাঙল তৃণমূল। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেবের পর এবার ইস্তফা প্রকাশচিক বরাইকের (Prakash Chik Baraik Resign)। বৃহস্পতিবারই নিজের ইস্তফাপত্র রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন চা বলয়ের ওই নেতা। ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে দাঁড়াল ১০-এ। শোনা যাচ্ছে, চলতি সপ্তাহে আরও এক তৃণমূল সাংসদ ইস্তফা দিতে পারেন। এ মাসের মধ্যেই পাঁচ-ছ’জন সাংসদ ইস্তফা দিতে পারেন। 

    শুধু রাজ্যসভার সাংসদ পদ নয়, তৃণমূল থেকেই ইস্তফা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইস্তফা দিয়ে নিজের রাজনৈতিক অভিসন্ধি গোপন করলেন না প্রকাশচিক। সাফ বলে দিলেন, “আগামী দিনে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যা নির্দেশ দেবেন, সেইমতো কাজ করব।” সরাসরি কি বিজেপিতে যোগ দেবেন তিনি? সে জল্পনাও উড়িয়ে দেননি আলিপুরদুয়ারের ওই আদিবাসী নেতা। তিনি বলছেন, “আগামী দিনে কী হবে সেটা সময় বলবে।”

    রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল বেনজির ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের পরিষদীয় দল মমতা-অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরি করেছে। সেই ব্লকে বিধায়কসংখ্যা এখন ৬৪ জন বলে দাবি। লোকসভাতেও একই ধাঁচে তৈরি হয়েছে নতুন তৃণমূল। সংসদের নিম্নকক্ষে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একজোট হয়ে এনডিএ-তে শামিল হওয়ার চিঠি দিয়েছেন প্রায় জনা ২০ তৃণমূল সাংসদ।

    একই ধাঁচে ভাঙন শুরু হয়েছে রাজ্যসভাতেও। যদিও এখানে ভাঙনের মডেল আলাদা। রাজ্যসভায় একযোগে বিধানসভা বা লোকসভার মতো ভাঙন হচ্ছে না। কারণ সংসদের উচ্চকক্ষে একসঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদ একজোট করাটা মুশকিল। তাই বিকল্প পন্থা নিচ্ছেন বিদ্রোহী সাংসদরা। একে একে ইস্তফা দিচ্ছেন তাঁরা। রাজ্যসভায় প্রথম ইস্তফাটি দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। পরে বুধবার ইস্তফা দেন সুস্মিতা দেব এবার লক্ষ্মীবারে সাংসদ পদ ছাড়লেন প্রকাশচিক বরাইক। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহে আরও এক এবং আগামী সপ্তাহে আরও দু’তিন জন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করতে পারেন। রাজ্য বিধানসভার যা পরিস্থিতি তাতে ওই রাজ্যসভা আসনগুলিতে উপনির্বাচন হলে তাতে জয়ী হবে বিজেপিই।
  • Link to this news (প্রতিদিন)