• পরনে গেঞ্জি-বারমুডা, জাহাঙ্গিরকে ফলতা ঘোরাল পুলিশ, লজ্জার লেশমাত্র নেই! মাথা উঁচু করেই হাঁটলেন ‘পুষ্পা’
    প্রতিদিন | ১১ জুন ২০২৬
  • পুলিশের ‘বারমুডা’ মডেল এবার ফলতাতেও। একদা ফলতার ‘পুষ্পা’ এখন রীতিমতো ভিজে বেড়াল! নেপাল পর্যন্ত পালিয়ে গিয়েও পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তাঁর সমস্ত হুঙ্কার একেবারে উবে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেই জাঙ্গাঙ্গির খানকে গেঞ্জি-বারমুডা পরিয়ে ফলতা ঘোরাল পুলিশ। তাতে অবশ্য তাঁর লজ্জার লেশমাত্র নেই! রীতিমতো মাথা উঁচু করে গা-ছাড়া ভঙ্গিতে হাঁটলেন নির্বাচন থেকে শেষবেলায় নাম প্রত্যাহার করা ফলতার তৃণমূল প্রার্থী।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে ফলতার সহরারহাট থেকে জাহাঙ্গির খানকে বারমুডা ও গেঞ্জি পরিয়ে এলাকায় ঘোরায় পুলিশ। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। স্থানীয় বাসিন্দারা ও পথচলতি মানুষ সেই দৃশ্য দেখে প্রথমে বেশ কিছুটা হতচকিত হয়ে যান। স্বচক্ষে তা দেখে প্রথমে দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতাকে চিনতেই পারেননি তাঁরা। পরে হুঁশ ফিরতেই বাসিন্দারা অবাক হয়ে যান। সেদিনের সেই অত্যাচারী জাহাঙ্গির খানের যে শেষমেশ এমন অবস্থা হবে, তা নিজের চোখে দেখে অনেকে আনন্দে হাততালিও দেন। কাউকে বলতে শোনা যায়, ”ওকে মারতে মারতে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।” যদিও জাহাঙ্গির দিব্যি মাথা উঁচু করেই গোটা রাস্তা হাঁটলেন।

    উল্লেখ্য, ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম আদালতের নির্দেশে ২০২১-এর ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের একটি মামলায় জাহাঙ্গির খানকে পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। ১৪ জুন, রবিবার সেই মেয়াদ শেষ হবে। তার মধ্যেই তাঁকে এলাকায় ঘোরাল পুলিশ। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের এভাবেই নানা জায়গায় ঘোরানো হচ্ছে। বদলের বাংলায় পুলিশের এই থেরাপি যেমন তাদের লোকলজ্জার মুখে ফেলছে, তেমনই জনতার কাছেও এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যে, এখন এঁদের ভয় থেকে মুক্ত আমজনতা।

    তবে এদিন ‘পুষ্পা’কে হাঁটানোর নেপথ্যে পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের প্রয়োজনে বেশ কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে যাওয়া হয়। বিভিন্ন অভিযোগ এবং মামলার সূত্র ধরে একাধিক স্থানে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাতে চায়নি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)