• অন্ধকারে হাসপাতাল, বন্ধ এক্স-রে! নদিয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিষেবার অভাবে ক্ষোভ
    News18 বাংলা | ১১ জুন ২০২৬
  • : বিদ্যুৎ বিভ্রাট, অচল এক্স-রে, ভোগান্তিতে রোগী, বেহাল কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতাল। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতাল। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এই হাসপাতালের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কৃষ্ণগঞ্জ ও হাঁসখালি ব্লকের পাশাপাশি ভীমপুর, আসাননগর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। এছাড়াও গেদে সীমান্ত দিয়ে পাসপোর্ট-ভিসার মাধ্যমে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের পরিকাঠামোগত দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

    রোগীদের অভিযোগ, জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালে এলে অনেক সময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসক বা নার্সদের খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বিদ্যুৎ না থাকলে হাসপাতালের অধিকাংশ অংশ অন্ধকারে ডুবে যায়। জরুরি বিভাগে সীমিত আলো থাকলেও হাসপাতাল চত্বর ও ওয়ার্ডগুলিতে চরম সমস্যার সৃষ্টি হয়। গরমের সময় রোগীদের পাখার সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। এমনকি অক্সিজেনের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটর বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থাও কার্যকর হয় না। অন্যদিকে হাসপাতালের জন্য নতুন এক্স-রে মেশিন আনা হলেও তা এখনও চালু করা যায়নি বলে অভিযোগ। ফলে রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য অন্যত্র যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা প্রিয়াস বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালের সমস্যাগুলি দীর্ঘদিনের। প্রশাসনের তরফে কোনও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।” অপর এক বাসিন্দা গোপাল চক্রবর্তীর অভিযোগ, “পরিকাঠামোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও ওষুধের অভাব রয়েছে। তার উপর বিদ্যুৎ না থাকলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ঢেকে যায়।”

    এ বিষয়ে কর্তব্যরত এক চিকিৎসক জানান, সম্প্রতি নির্বাচিত বিধায়কের সঙ্গে বিএমওএইচের আলোচনা হয়েছে। হাসপাতালের বিদ্যুৎ সমস্যার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে। এই হাসপাতালে প্রসূতি মায়েদের পাশাপাশি সাপের কামড়, কুকুরে কামড়ানো-সহ বিভিন্ন জরুরি রোগীর চিকিৎসা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষেধকও মজুত থাকে। তাই দ্রুত জেনারেটর মেরামত, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান ও এক্স-রে পরিষেবা চালুর দাবি তুলেছেন এলাকার মানুষ। এখন দেখার, কবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় এবং স্বস্তি ফেরে রোগী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)