• ‘খারাপ সময়ে দিদিকে ছেড়ে যাব না’, সই-জল্পনা উড়িয়ে স্পষ্ট জানালেন শত্রুঘ্ন
    এই সময় | ১১ জুন ২০২৬
  • তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন। তৃণমূলের সঙ্গেও আছেন। তৃণমূল ভাঙনের জল্পনার মধ্যে স্পষ্ট জানালেন আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। তিনি জানান, ২০১৯ সালে কঠিন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাঁর নির্দেশেই তিনি আসানসোল থেকে নির্বাচন লড়ে দু’বার জয়ী হন। তাই বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কঠিন সময়ে তাঁকে ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

    শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, তাঁকে নিয়ে নানা জল্পনা ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, তিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি সব সময় সত্য কথা বলেন। তৃণমূলের ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ায় দল ও মমতার পাশে থাকা তাঁর দায়িত্ব এবং কর্তব্য। তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ ও আসানসোলের মানুষের জন্য আমি আগের মতোই কাজ করে যাব।’

    তৃণমূলনেত্রী মমতার নেতৃত্বকে কার্যত অস্বীকার করে সম্প্রতি লোকসভায় দলের বেশ কয়েক জন সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথা বলেছেন। তার আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকও করেছিলেন বিদ্রোহীরা। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তখন থেকেই কানাঘুষো শোনা যায়, বিদ্রোহীদের চিঠিতে যাঁরা সই করেছেন, তাঁদের মধ্যে শত্রুঘ্নও রয়েছেন।

    এ নিয়ে মধ্যেই বুধবার প্রধানমন্ত্রী পদে মোদীর ১২ বছর পূর্তিতে তাঁকে অভিবাদন জানান শত্রুঘ্ন। ফলে তিনিও যে বিদ্রোহী, সেই জল্পনাও আরও জলবাতাস পায়। কিন্তু এ বার সে সব নিজেই খণ্ডন করে দিলেন শত্রুঘ্ন। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি দিদির পাশেই রয়েছেন।

    বিজেপির হাত ধরেই শত্রুঘ্নের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। কেন্দ্রের মন্ত্রীও হয়েছিলেন। কিন্তু আদর্শগত কারণের কথা জানিয়ে মোদী জমানাতেই বিজেপি ছাড়েন তিনি। পরে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে পাটনা সাহিবের প্রার্থী হন কংগ্রেসের টিকিটে। কিন্তু হেরে যান। এর পরে ২০২২ সালে তৃণমূলে যোগ দেন শত্রুঘ্ন। তার পরেই আসানসোল লোকসভা আসনে উপনির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করেন মমতা। শত্রুঘ্ন জেতেনও। তার পরে ফের ২০২৪ সালে আসানসোল থেকে জিতে লোকসভায় যান তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)